বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও তথ্যে সমৃদ্ধের লক্ষ্যে....

  • S AhameD

    All Rights Reserved By S AhameD

  • Tips And Tricks

    All Rights Reserved By S AhameD

  • All Rights Reserved By S AhameD

    বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে বাংলাকে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে মেতে উঠুন প্রযুক্তির সুরে......

  • About Us

    All Rights Reserved By S AhameD

  • Contact Us

    Contact For further information and advice

Notice

ব্লগ উন্নয়নের কাজ চলছে... সবার আন্তরিক সহয়োগীতা একান্তভাবে কামনা করছি..

Wednesday, April 12, 2017

প্রাক সুলতানী আমল নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর

প্রাক সুলতানী আমল নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর

মৌর্য বংশ-
♦প্রাচীন ভারতের সর্বপ্রথম সর্বভারতীয় সম্রাট কে ?
উঃ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
♦মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উঃ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
♦সর্বশেষ মৌর্য সম্রাট কে?
উঃ বৃহদ্রথ।
♦দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি কি ছিল?
উঃ বিক্রামাদিত্য।
♦চীনা বৌদ্ধ পন্ডিত হিউয়েন সাঙ ভারতে আসেন কোন রাজার আমলে ?
উঃ হর্যবর্ধন।
♦ভারত বর্ষ থেকে কোন রাজন্য গ্রীকদের বিতাড়িত করেন ?
উঃ মৌর্য সাম্রােেজ্যর প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত।
♦চন্দ্রগুপ্ত কোন বংশের রাজাকে পরাজিত করে মগধ্ দখল করেন?
উঃ নন্দবংশের শেষ রাজাকে।
♦ইন্ডিকা (Indika) নামক বিবরনমুলক গ্রন্থের লেখক কে?উঃ মেগাস্থিনিস।
♦‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থটির লেখক কে ?
উঃ কৌটিল্য।
♦কৌটিল্য আসলে কে কে?
উঃ চন্দ্রগুপ্তের প্রধান পরামর্শদাতা ও সাহায্যকারী চানক্য ও বিষ্ণুগুপ্ত।
♦মৌর্য সাম্রাট অশোক কার পুত্র ?
উঃ বিন্দু সারের।
♦অশোক কলিঙ্গ জয়ে বের হন কত খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে ?
উঃ ২৬০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে।
♦মৌর্য যুগে বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী কোথায় ছিল?
উঃ পুন্ডনগর।

গুপ্ত বংশ-
♣গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উঃ ১ম চন্দ্রগুপ্ত (শ্রী-গুপ্ত) ।
♣গুপ্ত সাম্রাজ্যের গোড়া পত্তন হয়?
উঃ ৩২০ খ্রিঃ পূর্বাব্দে।
♣গুপ্তযুগে বঙ্গের ভাগ কয়টি ছিল?
উঃ দুটি
♣গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে?
উঃ সমুদ্রগুপ্ত।
♣বিক্রমাদিত্য কার উপাধী ছিল?
উঃ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
♣অজান্তার গুহাচিত্র কোন যুগের সৃস্টি?
উঃ গুপ্তযুগের।
♣কোন সম্রাটকে ভারতীয় নেপোলিয়ন বলা হত?
উঃ সমুদ্রগুপ্তকে।
♣সর্ব প্রথম কোন চীনা পরিব্রাজক ভারতবর্ষে আগমন করেন?
উঃ ফা-ইয়েন।
♣ফা-হিয়েন কার সময়ে ভারতবর্ষ পরিভ্রমন করেন ?
উঃ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
♣ফা-হিয়েনের ভারত পরিভ্রমনের কারণ কি ছিল?
উঃ বৌদ্ধ ধর্মপুস্তক ‘বিনায়াপিটক’ এর মূল রচনা সংগ্রহ করা।
♣ফা-হিয়েন কত বছর ভারতবর্ষে অবস্থান করেন?
উঃ তিন বছর।
♣গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে কখন?
উঃ স্কন্দগুপ্তের বিক্রমাদিত্যের জীবনাবসনে।
♣গুপ্ত বংশের রাজত্বকাল স্থায়ী হয়েছিল?
উঃ ৩২০-৫৫০ খ্রিঃ
♣গুপ্ত বংশের মধ্যে স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজা কে ছিলেন ?
উঃ ১ম চন্দ্রগুপ্ত।
♣১ম চন্দ্রগুপ্তের উপাধি কি ছিল?
উঃ রাজাধিরাজ।
♣সমূদ্রগুপ্ত কখন সিংহাসনে আরোহন করেছিল?
উঃ ৩৩৫ খ্রিঃ।
♣সমূদ্রগুপ্ত কত বছর রাজ্য শাসন করেন?
উঃ ৪৫ বছর (৩৮০ খ্রিঃ পর্যন্তু)।
♣সমূদ্রগুপ্তের পিতা কে ছিলেন?
উঃ ১ম চন্দ্রগুপ্ত।
♣মহাকবি কালিদাস কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
উঃ ২য় চন্দ্রগুপ্ত।
♣২য় চন্দ্রগুপ্ত-এর রাজত্বকাল ছিল?
উঃ ৩৮০-৪১৩ খ্রিঃ
♣কখন সম্রাট আলেকজান্ডার ভারতবর্ষে আগমন করেন?
উঃ খ্রীস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে।
♣আলেকজান্ডারের গৃহ শিক্ষক কে ছিলেন?
উঃ এরিস্টটল।

গৌড় বংশ-
♠কে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
উঃ শশাঙ্ক।
♠গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
উঃ ৬০৬ সালে।
♠গৌড় রাজ্যের রাজধানীর নাম কি ছিল?
উঃ কর্ণসুবর্ণ
♠কে গৌড়ের স্বাধীন নরপতি ছিলেন?
উঃ শশাঙ্ক।
♠গৌড় বংশের শক্তিশালী রাজা কে ছিলেন?
উঃ শশাঙ্ক।
♠শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
উঃ কর্ণসুবর্ণ।
♠শশাঙ্কের উপাধি কি ছিল?
উঃ মহাসামন্ত।
♠হিউয়েন সাঙ কাকে বৌদ্ধধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে অবিহিত করেছেন?
উঃ শশাংঙ্ককে।
♠শশাঙ্কের পর গৌড় রাজ্য কে দখল করেন?
উঃ হর্ষবর্ধন।
♠আবররা কখন সিন্ধু আক্রমন করে?
উঃ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে।

পাল বংশ-
♥পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উঃ গোপাল।
♥গোপালের রাজত্বকাল কত ছিল?
উঃ ৭৫০ থেকে ৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ২০ বছর।
♥পাল বংশের রাজাগণ বাংলায় কত বছর রাজত্ব করেছেন?
উঃ প্রায় চারশ বছর।
♥পাল রাজারা কোন ধর্মালম্বী ছিলেন?
উঃ বৌদ্ধ।
♥বাংলার দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ কোনটি?
উঃ পাল বংশ।
♥পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে?
উঃ ধর্মপাল।
♥গোপালের পরে কে বঙ্গ দেশের সিংহাসনে আসীন হন?
উঃ ধর্মপাল।
♥ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মপ্রসারে কোন মন্দির স্থাপন করেন?
উঃ ১০৭ মন্দির সম্পন্ন বিক্রমশীলা বৌদ্ধ বিহার, 
    পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার, ময়নামতি বিহার ইত্যাদি।
♥ধর্মপালের রাজত্বকাল কত ছিল?
উঃ ৭৭০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত ৪০ বছর।
♥নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত ‘সোমপুর বিহার’ -এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
উঃ ধর্মপাল।
♥লৌসেন (Lausen) কে?
উঃ রাজা দেবপালের (৮১০-৮৫০ খ্রিঃ) সেনাপতি।
♥‘উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগ’ বলা হয় কার শাসনামলকে?
উঃ দেবপালের।
♥কবে পাল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে ?
উঃ ১১২৪ খ্রিষ্ঠাব্দে।

চন্দ্র বংশ-
>চন্দ্রবংশের শাসনকাল কত শতক পর্যন্তু বিস্তৃত ছিল?
উঃ ১০ম- ১১শ শতক।
>চন্দ্রবংশের প্রথম শক্তিশালী রাজা কে?
উঃ ত্রৈলোক্যচন্দ্র।
>ত্রৈলোক্যচন্দ্র আনুমানিক কত সময় রাজত্ব করেছেন?
উঃ ৯০০-৯৩০ খ্রিঃ।
>রমেশ্বর, পরম ভট্টারক, মহারাজাধিরাজ উপাধী কার ছিল?
উঃ শ্রীচন্দ্রের।
>শ্রীচন্দ্র কত সময় রাজত্ব করেছেন?
উঃ ৯৩০-৯৭৫ খ্রিঃ।

দেব বংশ-
>বেদ রাজবংশের রাজাদের রাজধানী নাম কি ছিল?
উঃ দেবপর্বত।
>দেবপর্বত কোথায় অবস্থিত ছিল?
উঃ কুমিল্লার ময়নামতি পাহাড়ের দক্ষিনাংশে।
>দেববংশের রাজত্বকাল কখন ছিল বলে অনুমান করা হয়?
উঃ ৭৪০-৮৯৯ খ্রিঃ

সেন বংশ-
>সেন বংশের প্রথম রাজা ও প্রতিষ্ঠাতা কে?
উঃ সামন্ত সেন।
>সেন রাজাদের পূর্ব পুরুষগণ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
উঃ দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক।
>কার শাসনামলে বাংলা সর্বপ্রথম এক শাসনাধীন আসে?উঃ বিজয় সেনের।
>বিজয় সেনের রাজত্বকাল কোন সময় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল?উঃ ১০৯৮-১১৬০ খ্রিঃ
>সেন বংশের সর্বপ্রথম সার্বভৌম রাজা কে?
উঃ বিজয় সেন।
>সেন বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে?
উঃ বিজয় সেন।
>বিজয় সেনের দ্বিতীয় রাজধানী কোথায়?
উঃ ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে (রামপাল)।
>কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক কে?
উঃ বল্লাল সেন।
>সেন বংশের সর্বশেষ রাজা কে?
উঃ লক্ষন সেন।
>বাংলার শেষ হিন্দু রাজা কে ছিলেন?
উঃ লক্ষন সেন।
>সেন রাজাদের মধ্যে গৌড়েশ্বর উপাধী কার ছিল?
উঃ লক্ষন সেন।
>লক্ষন সেনের রাজধানী কোথায় কোথায় ছিল?
উঃ গৌড় ও নদীয়ায়।
>সেন বংশের অবসান ঘটে কবে?
উঃ ত্রয়োদশ শতকে।
>কোন বাঙালী নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাধ্যক্ষ পদ অলংকৃত করেন?
উঃ শীলভদ্র।

Share:

Monday, March 27, 2017

বাঙালী জাতির অভ্যুদ্বয়

Education
বাঙালী জাতির অভ্যুদ্বয়
>বাঙ্গালী জাতির পরিচয় কি?
উঃ শংকর জাতি হিসেবে।
>বাংলা ভুমি খন্ডের প্রাচীন জনপদগুলোর নাম কি কি?
উঃ গৌড় -(পুন্ড্রু, বরেন্দ্রীয়, রাঢ়), সুহ্ম-(তাম্র, লিপ্পি, সমতট), বঙ্গ-(বঙ্গাল, হরিকেল)
>রাজা শশাঙ্কের শাসনামলের পর বঙ্গ দেশ কয়টি জনপদে বিভিক্ত ছিল?
উঃ ৩টি । যথাঃ পুন্ড্রু, গৌড়, বঙ্গ।
>প্রাচীন জনপদ পুন্ড্রের রাজধানীর ধ্বংশাবশেষ বর্তমান বাংলাদেশের কোথায় পাওয়া যায়?
উঃ বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে।
>দেশবাচক নাম হিসেবে বাংলা শব্দের ব্যবহার কখন প্রয়োগ হয় ?
উঃ মুসলিম শাসনামলের প্রথম দিকে|
>সম্রাট আকবরের আমলে সমগ্র বঙ্গদেশ কি নামে পরিচিতি ছিল ?
উঃ সুবহ-ই-বাঙ্গালাহ নামে।
>Bengal এবং Bangla কোন শব্দের রুপান্তর?
উঃ ফারসী ‘বাঙ্গালহ্’ শব্দের।
>কোন গ্রন্থে বাংলা শব্দের প্রথম ব্যবহার হয়েছে?
উঃ আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে।
>সমগ্র বাংলাদেশ ‘বঙ্গ’ নামে ঐক্যবদ্ধ হয় কোন আমলে?উঃ পাঠান আমলে।
>প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ বলতে কোন অঞ্চলকে বুঝায়?
উঃ আধুনিক মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি গ্রামকে।>আর্যগণ কবে বাংলাদেশে আগমন করে?
উঃ ২০০০ খ্রিঃ পূর্বাব্দে।
>আর্যগণ আগমনের পূর্বে এ দেশে কাদের বসবাস ছিল?
উঃ অনার্যদের
>চীনা পরিব্রাজক হিউ-এন-স্যঙ কবে বাংলায় আগমন করেন ?
উঃ সপ্তম শতকে।
>বাংলার শাসন পদ্ধতি সুষ্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায় কোন যুগে?
উঃ গুপ্ত যুগে।
>কোন সম্রাটের আমলে এ দেশে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার ঘটে ?
উঃ সম্রাট অশোকের আমলে।
>প্রাচীন সভ্যতার অভ্যুদয় ঘটে কোথায়?
উঃ এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ।
>প্রাচীন বাংলাদেশে কয়টি জনপদ বিভক্ত ছিল ?
উঃ তিনটি জনপদে।
>আর্যদের ধর্মগ্রন্থের নাম কি ?
উঃ বেদ।
>বৈদিক যুগের শিক্ষার ভাষা কি ছিল ?
উঃ সংস্কৃত।
>বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর কোন ভাষাভাষা ছিল ?
উঃ অষ্ট্রিক।
>সিন্ধু সভ্যতা কোন যুগের?
উঃ তাম্র যুগের।
>সিন্ধু সভ্যতা কখন আবিস্কার হয়?
উঃ ১৯২২ সালে।
>গৌতম বুদ্ধের জন্ম স্থান কোথায়?
উঃ লুম্বিনী (নেপাল)।
Share:

Wednesday, March 22, 2017

কোটিপতি হওয়ার মন্ত্র (মেগা টিউন)

কোটিপতি হওয়ার ৫০টি মন্ত্র
১. শূন্য থেকে শুরু করে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠুন:-
  • বহু সফল ব্যক্তি খালি হাতেই তাদের কাজ শুরু করেছিলেন। স্টারবাকস প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হাওয়ার্ড স্কুলজ ও গোল্ডম্যান সাক্স-এর সিইও লয়েড ব্ল্যাংকফেইন বড় হয়েছেন এভাবেই। প্রতিযোগিতা ও দুর্ভাগ্য তৈরি করে বড় নেতা।
২. যা ভালো লাগে, তাই করুন:-
  • অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো কাজের একমাত্র উপায় হল নিজের কাজকে ভালোবাসা। আপনি যদি এটা না পেয়ে থাকেন তাহলে খুঁজতে থাকুন। স্থীর হবেন না।’ তিনি ঠিকই বলেছিলেন। আপনি যদি নিজের আগ্রহের বিষয়ে কাজ করেন তাহলে গ্রাহকরাও আপনাকে খুঁজে বের করবে। আর এভাবে টাকাও খুঁজে বের করবে আপনাকে।
৩. সিলিকন ভ্যালি অনুসরণ করুন:-
  • যুক্তরাষ্ট্রের হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্র সিলিকন ভ্যালি বহু মানুষের ভাগ্য ফিরিয়েছে। শুধু প্রধান নির্বাহীরাই নয়, বহু চাকরিজীবীও এখানে খুব ভালো আছেন। এর কারণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে উঠেছে বহু মানুষের সমৃদ্ধির সোপান।
৪. নিজের ব্যবসা শুরু করুন, সন্নাসীর মতো থাকুন:-
  • নতুন ব্যবসা শুরু করে নিজে একজন সন্নাসীর মতো জীবন নির্বাহ করুন। আমেরিকার মিলিয়নেয়ারদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ অবস্থায় এসেছেন। তাদের অধিকাংশই আবার ছোট ব্যবসা করেন আর তাদের সামর্থের চেয়ে কম অর্থে জীবন নির্বাহ করেন। তবে তাদের অর্থ তারা আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সাধারণত তারা পূর্বপুরুষের কাছ থেকে কোনো অর্থ পাননি। তাই কেনার আগে আরেকবার চিন্তা করুন- আপনার কি নতুন গাড়ি বা দামি যন্ত্রটা লাগবেই?
৫. ঝুঁকি নিন, ভুল করুন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন:-
  • অধিকাংশ মানুষ অবিবেচনাপ্রসূত অথবা সাধ্যের অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেলে, যা তাদের নেয়া উচিত নয়। তার বদলে স্মার্ট ঝুঁকি নিতে হবে, যা বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যান। ভুল হলেও তা স্বাভাবিক। আঘাত না পেয়ে কেউ সামনে এগোতে পারে না।
৬. অনেক ত্যাগ করে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করুন:-
  • ইয়াহুর সিইও মেরিসা মেয়ার খুবই পরিশ্রমি একজন নারী। তিনি সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করেন। আর এলন মাস্ক দুটি প্রতিষ্ঠা চালান। একই বিষয় প্রযোজ্য ছিল স্টিভ জবসের ক্ষেত্রে। তিনি অ্যাপল ও পিক্সার চালাতেন। আপনি যা বিনিয়োগ করবেন তার ফলাফল পাবেন।
৭. নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করুন:-
  • এটা বলা হয় যে, সুযোগ যখন প্রস্তুতির সঙ্গে মিলে যায় তখন সৌভাগ্য আসে। আমি খুব ভাগ্যবান – এ কথার পাশাপাশি এটাও সত্য যে আমি ভাগ্য খোঁজার কাজে কখনো থামিনি। আর যখনই কোনো সুযোগের আশা মিলেছে তা হারাইনি। এ কারণে অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে বাস্তব জগতের সফল মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে।
৮. স্থিতিশীল বিবাহিত জীবন:-
  • বিয়ে ভাঙার পর বহু ধনী মানুষের সম্পত্তি কমে গেছে। এ কারণে ধনী হওয়া ও থাকার জন্য স্থিতিশীল বিবাহিত জীবন গুরুত্বপূর্ণ।
৯. বৈচিত্র্য আনুন:-
  • বহু ধরনের ধারণা আনুন নিজের কাজে। এতে অনেক কষ্ট ও সময় ব্যয় হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে এর সুফল অবশ্যই পাবেন।
১০. সর্বাত্মক চেষ্টা করুন:-
  • বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আপনি সহজেই ধনী হতে পারবেন না। এ জন্য প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো টাকা উপার্জন বাড়ানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আর এতে যে পথগুলো সফল হবে সে পথে উপার্জন বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করতে হবে।
১১. লোক দেখানো বন্ধ করুন:-
  • সামান্য কিছু টাকা হলেই তা দিয়ে বিভিন্ন বিলাসদ্রব্য কেনা অভ্যাস বন্ধ করুন। পর্যাপ্ত টাকা না আসা পর্যন্ত দামি মোবাইল ফোন, ঘড়ি, গাড়ি ইত্যাদির পেছনে এক পয়সাও ব্যয় করা যাবে না। অর্থ ব্যয় করার বদলে তা জমিয়ে নতুন করে অর্থ উপার্জনের কাজে লাগান।
১২. বিনিয়োগ ক্ষেত্র বের করুন:-
  • আপনার টাকা জমানোর মূল উদ্দেশ্য হবে তা দিয়ে যুৎসই বিনিয়োগ করা। আপনার যে টাকাটাই জমবে তাই বিনিয়োগ করার পথ খুঁজুন।
১৩. লাভ ছাড়া ঋণ নয়:-
  • সরাসরি আর্থিক লাভ হয় না, এমন ঋণ বাদ দিন। ঋণ নিয়ে একটি গাড়ি কিনতে হলেও আপনার চিন্তা করতে হবে, এ থেকে কী লাভ হবে? যদি ব্যবসাক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লাভ আনতে পারে গাড়িটি, তা হলেই কেবল তা কেনা যেতে পারে।
১৪. টাকাকে অগ্রাধিকার দিন:-
  • বহু মানুষই আর্থিক স্বাধীনতা আশা করে কিন্তু একে বাস্তবে অগ্রাধিকার দেয় না। যদি বাস্তবেই টাকাকে ভালোবাসেন তা হলে সে আপনার কাছে আসবেই। তবে সে জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
১৫. বিশ্রাম বাদ দিন:-
  • মানুষের মতো টাকা ঘুমায় না। এর নেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা অন্য কোনো বিশেষ দিবস। সারা বছর একটানা কাজ করে যায় টাকা। আর তাই টাকাকে ধরতে হলে আপনারও বিশ্রামের কথা ভুলে যেতে হবে। শুধু যে বিশ্রামটুকু না করলেই নয়, তাই করতে হবে।
১৬. গরিব অবস্থাকে ভয় করুন:-
  • অনেক ধনী মানুষই অতীতে গরিব ছিলেন। বিল গেটস বলেন, 'গরিব অবস্থায় জন্মগ্রহণ করা আপনার ভুল নয়। কিন্তু গরিব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করাটা আপনার ভুল। ' গরিব হওয়াকে ভয় পাওয়া দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে বহু ব্যক্তিকে উৎসাহিত করেছে।
১৭. গুরু খুঁজে নিন :-
  • মধ্যবিত্ত সমাজে ধনী হওয়ার কলাকৌশল নিজে নিজে রপ্ত করা অনেক কঠিন। এ ক্ষেত্রে একজন ধনী ব্যক্তির আন্তরিক পরামর্শ প্রয়োজন। আর এ কাজে উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৮. বিনিয়োগ, বিনিয়োগ, বিনিয়োগ:-
  • আপনার হাতে আয়ের সম্ভাব্য যত উৎস আছে, তা একত্রিত করে সতর্কভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। আর এ বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ আবার বিনিয়োগ করতে হবে। এভাবে ক্রমাগত বিনিয়োগ করেই আপনার আর্থিক ভিত্তি সম্প্রসারিত হবে।
১৯. বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করুন:-
  • অনেকেই লক্ষ্য নির্ধারণে বিচক্ষণতার পরিচয় দেয় না। এ কারণে তারা লক্ষ্যমাত্রাই অল্প করে ধরে রাখে। ফলে মূল উপার্জন এর চেয়েও কমে যায়। তাই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিচক্ষণতার পরিচয় দিন, এক কোটির জায়গায় টার্গেট করুন ১০ কোটি টাকার। এ ক্ষেত্রে পুরো টাকাটা না পেলেও এর কাছাকাছি অন্তত পৌঁছাতে পারবেন।
২০. টাকার পিছনে ছুটবেন না, টাকাকে নিজের পিছনে ছোটান:-
  • বড়লোক হতে গেলে টাকার পিছনে ছুটলেই চলে না। দেখবেন ঠিক পরিকল্পনা করে চলে টাকাই আপনার পিছনে ছুটবে। আচ্ছা নিন একটা ঘটনমা বলি। বিল গেটসের। বিল গেটস একদিন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন লেকচার দিতে। অনেক কথা ছাত্রদের সঙ্গে শেয়ার করার পর যখন বিলের বক্তৃতা শেষ হল, তখন হঠাত্‍ই তাঁর পকেট থেকে ১০ ডলার পরে গেল। বিল কিন্তু সে টাকাটা কুড়োলেন না। সবাই তখন অবাক হয়েছিলেন। বিল কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ওই টাকা কুড়োতে যত সময় খরচ হল, ওই সময় ব্য করে তিনি তার চেয়ে বেশি টাকা রোজগার করতে পারেন। নিজেকে এমনভাবেই তৈরি করুন। শুধু টাকার পিছনে ছুটবেন না। সময়কে, কাজকে উপভোগ করে কাজ করুন।
২১. ব্যতিক্রমি কিছু ব্যবসা-বিনিয়োগের কথা ভাবুন:-
  • দুনিয়ার বেশিরভাগ বড়লোক মানুষই ব্যতিক্রমী কিছু ভাবনার ওপর ভর করে ব্যবসা করেই নিজেদের ওপরে নিয়ে গিয়েছেন। আচ্ছা একবার ভাবুন  Scotch Brite এর কথা। আগে তো আমারা এমনি ন্যাকড়া দিয়েই বাসনপত্র মাজতাম। কিন্তু কেউ একজন ভেবেছিলেন এমন একটা কিছু আনতে হবে যা দিয়ে ন্যাকড়াকে বদলে অ্য অভ্যাস করানো যায়। কিংবা ধরুন আজকালকার অনলাইন শপিং। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মালিকরাও ব্যতিক্রমি ভেবেছিলেন। আপনিও ভাবুন, পড়ুন, দেখুন। নতুন ব্যবসার ভাবনা লুকিয়ে আছে আমাদের চোখের সামনে, শুধু আমরা সেটা দেখতে পারছি না। এই ভাবনা, আর তারপর সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপরেই আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্ভর করছে।
২২. খরচের জায়গাগুলো একটু ভাল করে খেয়াল করুন:-
  • পনি হয়তো ভাল রোজগার করছেন। কিন্তু মাসের শেষে দেখছেন সেই ভাঁড়ে মা ভবানি অবস্থা। তাহলে এক কাজ করুআন দেখুন তো আপনার খরচগুলো ঠিক কোথায় কোথছায় হচ্ছে। আচ্ছা, আপনার লাইফস্টাইলটা কী একটু বড়লোকি হয়ে যাচ্ছে না। হয়তো এর চেয়ে একটু কম খরচ হলেও আপনার চলে যায়। এসবই আপনি বুঝতে পারবেন যদি খরচের জায়গাগুলো একটু লিখে রাখেন। দেখবেন পরে চোখ বোলালে বুঝবেন কোন জায়গাগুলো একটু চেক করতে হবে।
২৩. একই চাকরিতে বছরের পর বছর আটকে না থেকে ভাল সুযোগ পেলে নতুন জায়গায় যান:-
  • বছরের পর বছর একই কোম্পানিতে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু এই কথা ভেবে ‘যাক চলে যাচ্ছে, রোজগার তো করছি, খেতে তো পাচ্ছি’। এভাবে না ভেবে সুযোগ তৈরি করুন, সুযোগ কাজে লাগান। কোম্পানি পরিবর্তন করলে একদিকে মাইনে, পদ বাড়ে, অন্যদিকে বাড়ে আত্মবিশ্বাস, আসে নতুন কিছু করার মানসিকতা। তাই ভাল সুযোগ পেলে নতুন জায়গায় যান।
২৪. অজুহাত দেখানো:-
  • একটি কাজ না করার পেছনে হাজারটি অজুহাত দেখানো যায়, কিন্তু কাজটি করার জন্যে একটি কারণই যথেষ্ট।
২৫. শুধু পছন্দসই চাকরি নয়, চাকরির জায়গাটাকেও গুরুত্ব দিন:-
  • শুধু পছন্দসই চাকরিতে পেয়েছেন বলেই আত্মহারা হবেন না। চাকরির জায়গাটাও গুরুত্ব দিন। ধরুন আপনি চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে জড়িত। তাহলে চেষ্টা করুন এই কাজের সেরা জায়গায় কাজ করতে। এটা ঠিক যোগ্যতা থাকলে যে কোনও জায়গা থেকে উজ্জ্বল হওয়া যায়। তবে এটাও ঠিক অনেক সময় পেশাদার আবহ আপনার কাছ থেকে সেরাটা বের করে নেয়। তাই একেবারে সেরা জায়গায় কাজ করলে আপনার সেরাটা দেওয়া যায়। তাই সেরাটা পাওয়ায় যায়।
২৬. চোখ কান খোলা রাখুন, রোজগারের পন্থা আসতে পারে যে কোনও জায়গা থেকে:-
  • সব সময় চোখ কান খোলা রাখুন। যে কোনও আলোচনা থেকে বড় কোনও রোজগারের একটা দিশা তৈরি হতে পারে। কখনও ভাববেন না ওটা আমার কাজ নয়। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকেরবার্গ পর্যন্ত বলেছেন, চোখ কান খোলা না থাকলে তিনি কখনই ফেসবুক খুলতে পারতেন না। ইন্টারনেটটা খুব ভাল করে ঘেঁটে ফেলনু। গোটা দুনিয়াটা লুকিয়ে আছে নেট দুনিয়ায়। সেখান থেকে রোজগারের পন্থা বের করুন। মাথা খাঁটান।
২৭. সময়কে কাজে লাগান:-
  • বিনিয়োগ করার আগে ভাবুন-দিনের ২৪ ঘণ্টাকে ভাগ করে নিন। রোজগার করতে হলে পরিশ্রম করতে হবে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি করতে হবে সময় পরিকল্পনা। ধরা যাক আপনি চাকরি করেন। মানে ৯-১০ ঘণ্টা আপনি কাজে ব্যস্ত, তারপরের সময়টা কাজে লাগান। ছোট কোনও ব্যবসা থেকে শুরু করুন। টিউশনিও খারাপ অপশন নয়। যে অতিরিক্ত সময়টা কাজ করছেন সেই টাকাটা বিনিয়োগ করুন। ভুলে যাবেন না বিন্দুতে বিন্দুতে সিন্ধু হয়।
২৮. স্বপ্ন দেখুন দোষ নেই, কিন্তু সবার আগে সঠিক পরিকল্পনা করুন:-
  • বড়লোক হব এমন স্বপ্ন দেখাটা ভাল। হ্যাঁ, ছেঁড়া কাঁথাতে শুয়ে থেকেও লাখ টাকার স্বপ্ন দেখাও ভাল। কারণ আগে কোনও কিছু করতে হলে স্বপ্ন দেখতে হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে আগে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। ডায়েরিতে সময় ঠিক করে পরিকল্পনা করুন। ধরুন লিখলেন এক বছরের মধ্যে এক লাখ টাকা জমাতে চান। তারপর স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ। দশ মাস পর হিসেব করে নিন পরিকল্পনা ঠিক দিকে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না।
২৯. আগে ঠিক করুন কোন ধরনের বড়লোক হতে চান:-
  • আগে ঠিক করুন কোন ধরনের বড়লোক হতে চান। মানে ব্যবসার মাধ্যমে নাকি চাকরি করে। বড়লোক মানে প্রচুর টাকার মালিক নাকি বড় মনের মানুষ। সে সবগুলো আগে ঠিক করুন। ব্যবসা করে বড় কিছু করতে হলে ধাপে ধাপে ওঠার চেষ্টা করুন। লাভের টাকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগ করুন। একটা ব্যবসায় আটকে না থেকে ধীরে ধীরে অনেক কিছুতে বিনিয়োগ করার চেষ্টা করুন। চাকরি করে বড়লোক হতে হলে আগে টিম লিড করতে শিখুন। কাজের পাশাপাশি নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন। অফিসের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে বসকে নিজের কাজের ভাল দিকটা বোঝানোর চেষ্টা করুন।
৩০. যাদের সহায়তা করছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন:-
  • ধনী ও সফল ব্যক্তিদের খুবই সহায়তাকারী হিসেবে দেখা যায়। তারা সব সময় মানুষকে নানাভাবে সহায়তা করে এবং সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই আবার তাদের ধনী হয়ে উঠতে সাহায্য করেন। এ কারণে আপনি যাদের সহায়তা করছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তারাই একসময় আপনাকে ধনী ও সফল হতে সাহায্য করবে।
৩১. ভালোভাবে একটি কাজ করুন:-
  • আপনি যে কাজটিতে অন্যের তুলনায় ভালো, সে কাজটিতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। এরপর সে দক্ষতা ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের পথ বের করুন। আর পাশাপাশি এ দক্ষতাকেও বাড়িয়ে চলুন। দেখা গেছে, আর্থিকভাবে সফল ব্যক্তিদের অন্তত এক দিকে অন্যদের চেয়ে ভালো দক্ষতা রয়েছে। এটা ব্যবহার করেই তাদের অনেকে উন্নতি করেছেন।
৩২. কোনো এক বিষয়ে বিশ্বসেরা ১০ জনের তালিকা করুন:-
  • আপনার আগ্রহের কোনো একটি বিষয়ে বিশ্বের সেরা ১০ জনের তালিকা করুন। তারা হতে পারেন সঙ্গীত শিল্পী, ব্যাংকার কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষ। তাদের সাফল্যের পেছনের কাহিনী অনুসন্ধান করুন। সফল ব্যক্তিদের শুধু সম্মান করলেই হবে না, তাদের সাফল্যের পেছনের কাহিনীও জানতে হবে। এরপর সে কাহিনী থেকে নেওয়া শিক্ষা নিজের জীবনে কাজে লাগাতে হবে।
৩৩. উন্নতি পর্যবেক্ষণ করুন:-
  • ধনী হওয়ার যদি সংকল্প করেই থাকেন, তাহলে মাঝপথে গিয়ে গন্তব্যের কথা ভুলে গেলে চলবে না। তা পথ যথই দীর্ঘ হোক না কেন। এ কারণে প্রতিনিয়ত আপনার উন্নতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আপাত দৃষ্টিতে এ পথচলা খুবই ধীর মনে হবে। কিন্তু মনে রাখবেন, হাজার মাইলের পথ চলা একটি পদক্ষেপ দিয়েই শুরু হয়। আর এখানে প্রতিটি পদক্ষেপই অতি মূল্যবান।
৩৪. রুটিন তৈরি করুন, সে অনুযায়ী কাজ করুন:-
  • ধনী হওয়ার জন্য আপনার নির্দিষ্ট একটি রুটিন তৈরি করতে হবে এবং সে রুটিন অনুযায়ী চলতে হবে। যেমন ধরুন আপনি ২০০ পৃ্ষ্ঠার একটি বই লিখতে চান। তাহলে এ বইয়ের জন্য প্রতিদিন চারটি করে পাতা লেখা হতে পারে আপনার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। অথবা কোনো ব্যবসার কাজে আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে প্রতিদিন ১০০ ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। এটি সে ক্ষেত্রে হতে পারে আপনার রুটিনের অংশ।
৩৫. অধিগ্রহণ করতে আগ্রাসী হোন:-
  • সিআইএর জন্য ডেটাবেজ তৈরি করে ক্যারিয়ার শুরু করেন ল্যারি এলিসন। তিনি বর্তমানে ৪৮.৮ বিলিয়ন ডলারের মালিক। এরপর তিনি ১৯৭৭ সালে ওরাকল নামে ডেটাবেজ সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়াল স্ট্রিটকে তিনি বলেন, আমরা বহু কাজে আমাদের অর্থ ব্যয় করি। আমরা স্টক কিনতে পারি, ডিভিডেন্ডের জন্যও অর্থ ব্যয় করতে পারি। কিন্তু আমরা প্রায়ই বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে অধিগ্রহণ করতে আগ্রহী হই না। যদিও এ বিষয়টি খুবই সম্ভাবনাময়।
৩৬. আমি করতে পারতাম:-
  • একজন সফল বাক্তির কাছে পরিতাপ করাটা সবচেয়ে খারাপ অনুভুতি,যখন তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য কিছু “আছে পারে” বা পরিস্থিতির হাত ছিল বা অন্যথায় তাদের এখন বুঝতে যে তারা “থাকতে হবে।”সফল ব্যক্তিদের নিজেদের দু:খ প্রকাশ করার সুযোগ দেন না।এর পিছনে দুটি কারন হয়ঃহয় তারা সুযোগ নিচ্ছে কোন ব্যাপার শ্রেষ্ঠতা নিতে, অথবা তারা অপেক্ষায় আছে যে আরেকটি সুযোগ।
৩৭. আমার কোন উপায় ছিল না:-
  • এখানে হাতে সবসময়ই উপায় বা সুযোগ রয়েছে এবং সফল মানুষরা জানে যে কিভাবে এই সুযোগ গুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পথ তৈরী করে নিতে হয়।নির্দিষ্ট মূল্য মতে এখন আমাদের নিজেদের কে বোঝানো ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই যে আমরা এইটার শিকার এবং আমরা আমাদের পরিবেশের চেয়ে কম শক্তিশালী।
৩৮. কখনোই শেখা বন্ধ করবেন না:-
  • নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বর্তমানে ৪৩.১ বিলিয়ন ডলারের মালিক। তিনি ব্লুমবার্গ এলপির প্রতিষ্ঠাতা। ব্লুমবার্গকে তিনি জানান, তার সাফল্যের সূত্র হলো কখনোই শেখা বন্ধ না করা। সব সময়েই নিত্যনতুন বিষয় শিখতে হবে এবং শেখার এ আগ্রহ কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না বলে তিনি মনে করেন।
৩৯. প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকুন:-
  • বার্নার্ড আর্নল্ট বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা এলভিএমএইচের কর্নধার। তিনি ৩৪.৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক। তার প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে বেশ কিছু বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন ‘আমি খুবই প্রতিযোগী মনোভাবসম্পন্ন। আমি প্রতিযোগিদের কাছ থেকে এগিয়ে থাকতে পছন্দ করি এবং সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
৪০. ব্যর্থতা থেকে শিখুন:-
  • মেক্সিকান এ ব্যবসায়ীর মালিকানায় রয়েছে কয়েকশ প্রতিষ্ঠান। কার্লোসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৮.২ বিলিয়ন ডলার। তিনি ২০১০ সালে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতে বলেন ‘আমরা যখন সমস্যার মুখোমুখি হই, তারা চলে যায়। এ কারণে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন এবং সাফল্যকে গোপনে ডেকে আনুন।’
৪১. শিক্ষাগ্রহণ:-
  • আপনার সবচেয়ে অখুশি কাস্টমাররাই আপনার শিক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে বড় উৎস। ’অর্থাৎ আপনার অসন্তুষ্ট ক্রেতাদের থেকেই আপনি শিক্ষাগ্রহণ করতে পারবেন। তাদের সকল অভিযোগই হচ্ছে শিক্ষার মূল উৎস।
৪২. চেষ্টা :-
  • আপনার আগ্রহের কোনো একটি বিষয়ে বিশ্বের সেরা ১০ জনের তালিকা করুন। তারা হতে পারেন সঙ্গীত শিল্পী, ব্যাংকার কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষ। তাদের সাফল্যের পেছনের কাহিনী অনুসন্ধান করুন। সফল ব্যক্তিদের শুধু সম্মান করলেই হবে না, তাদের সাফল্যের পেছনের কাহিনীও জানতে হবে। এরপর সে কাহিনী থেকে নেওয়া শিক্ষা নিজের জীবনে কাজে লাগাতে হবে।
৪৩.  শিখুন:-
  • আপনার আগ্রহের কোনো একটি বিষয়ে বিশ্বের সেরা ১০ জনের তালিকা করুন। তারা হতে পারেন সঙ্গীত শিল্পী, ব্যাংকার কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষ। তাদের সাফল্যের পেছনের কাহিনী অনুসন্ধান করুন। সফল ব্যক্তিদের শুধু সম্মান করলেই হবে না, তাদের সাফল্যের পেছনের কাহিনীও জানতে হবে। এরপর সে কাহিনী থেকে নেওয়া শিক্ষা নিজের জীবনে কাজে লাগাতে হবে।
৪৪. সমালোচনা গ্রহণ করুন:-
  • অনেকেই ভালোভাবে নিতে পারেন না। যদিও বিল গেটসের পরামর্শ হলো, সমালোচনাকে সব সময় সাদরে গ্রহণ করতে হবে। সমালোচনাকারীর কথা ভালো না লাগলেও তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং তা থেকে নানা দোষ-ত্রুটি সমাধানের পথ খুঁজসমালোচনাকে তে হবে।
৪৫. আশাবাদী হওয়া:-
  • আশাবাদী হওয়ার বিষয়টি অনেক সহজ মনে হলেও অনেকের পক্ষেই আশাবাদী হওয়া কঠিন। আর আশাবাদী না হলে কোনো বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসাই শুরু করা সম্ভব নয়। আশা ছাড়া দুর্গম চলার পথে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব।
৪৬. বিফলতার প্রস্তুতি:-
  • জীবনের সব কাজেই যে সফলতা পাওয়া যাবে এমন কোনো কথা নেই। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ব্যর্থতা আসতেই পারে। কিন্তু সেজন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। বিফলতায় নিরাশ না হয়ে বরং তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পূর্ণোদ্যমে নতুন কাজে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।
৪৭. লক্ষ্য নির্ধারণ ও সেদিকে অগ্রসর হওয়া:-
  • সাফল্যের জন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং ক্রমাগত সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হওয়া। জীবনে লক্ষ্য নির্ধারণ না করলে অগ্রসর হওয়ার উপায় থাকে না। তাই নির্দিষ্ট একটি সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে লক্ষ্য অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে।
৪৮. টাকাকে অগ্রাধিকার দিন:-
  • বহু মানুষই আর্থিক স্বাধীনতা আশা করে কিন্তু একে বাস্তবে অগ্রাধিকার দেয় না। যদি বাস্তবেই টাকাকে ভালোবাসেন তা হলে সে আপনার কাছে আসবেই। তবে এ জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
৪৯. কাজে বৈচিত্র্য আনুন:-
  • বহু ধরনের ধারণা আনুন নিজের কাজে। এতে অনেক কষ্ট ও সময় ব্যয় হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে এর সুফল অবশ্যই পাবেন।
৫০. সর্বাত্মক চেষ্টা করুন:-
  • বহু ধরনের ধারণা আনুন নিজের কাজে। এতে অনেক কষ্ট ও সময় ব্যয় হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে এর সুফল অবশ্যই পাবেন।সর্বাত্মক চেষ্টাই আপনাকে পৌঁছে দেবে লক্ষ্যে। আপনি যখন কিছু চাইবেন, প্রকৃতি আপনাকে তা পাইয়ে দিতে তোলজোড় শুরু করে। সুতরাং চেষ্টা করুন, পেয়ে যাবেন।
সূত্রঃ ইন্টারনেট
Share:

সফল ও ধনী হওয়ার উপায় সমুহ (মেগা টিউন)


সফল ও ধনী হওয়ার উপায়- 
ধনী হওয়ার উপায় অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হলেও বহু ধনী বিষয়টি উড়িয়ে দেন। তাঁরা কয়েকটি উপায়ের কথা বলেন, যা কঠোরভাবে পালন করলে ধনী হওয়া সম্ভব অল্প বয়সেই। তবে এ ক্ষেত্রে বিষয়গুলো আংশিক মানলে হবে না, সফল হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অক্ষরে অক্ষরে বিষয়গুলো পালন করতে হবে। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই মিলিয়নেয়ার হওয়া গ্র্যান্ট কার্ডন এ লেখার ১০টি পরামর্শ দিয়েছেন।
১. সর্বাত্মক চেষ্টা করুন
  • বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আপনি সহজেই ধনী হতে পারবেন না। এ জন্য প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো টাকা উপার্জন বাড়ানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আর এতে যে পথগুলো সফল হবে সে পথে উপার্জন বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করতে হবে।
২. লোক দেখানো বন্ধ করুন
  • সামান্য কিছু টাকা হলেই তা দিয়ে বিভিন্ন বিলাসদ্রব্য কেনা অভ্যাস বন্ধ করুন। পর্যাপ্ত টাকা না আসা পর্যন্ত দামি মোবাইল ফোন, ঘড়ি, গাড়ি ইত্যাদির পেছনে এক পয়সাও ব্যয় করা যাবে না। অর্থ ব্যয় করার বদলে তা জমিয়ে নতুন করে অর্থ উপার্জনের কাজে লাগান।
৩. বিনিয়োগ ক্ষেত্র বের করুন
  • আপনার টাকা জমানোর মূল উদ্দেশ্য হবে তা দিয়ে যুৎসই বিনিয়োগ করা। আপনার যে টাকাটাই জমবে তাই বিনিয়োগ করার পথ খুঁজুন।
৪. লাভ ছাড়া ঋণ নয়
  • সরাসরি আর্থিক লাভ হয় না, এমন ঋণ বাদ দিন। ঋণ নিয়ে একটি গাড়ি কিনতে হলেও আপনার চিন্তা করতে হবে, এ থেকে কী লাভ হবে? যদি ব্যবসাক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লাভ আনতে পারে গাড়িটি, তা হলেই কেবল তা কেনা যেতে পারে।
৫. টাকাকে অগ্রাধিকার দিন
  • বহু মানুষই আর্থিক স্বাধীনতা আশা করে কিন্তু একে বাস্তবে অগ্রাধিকার দেয় না। যদি বাস্তবেই টাকাকে ভালোবাসেন তা হলে সে আপনার কাছে আসবেই। তবে সে জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
৬. বিশ্রাম বাদ দিন
  • মানুষের মতো টাকা ঘুমায় না। এর নেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা অন্য কোনো বিশেষ দিবস। সারা বছর একটানা কাজ করে যায় টাকা। আর তাই টাকাকে ধরতে হলে আপনারও বিশ্রামের কথা ভুলে যেতে হবে। শুধু যে বিশ্রামটুকু না করলেই নয়, তাই করতে হবে।
৭. গরিব অবস্থাকে ভয় করুন
  • অনেক ধনী মানুষই অতীতে গরিব ছিলেন। বিল গেটস বলেন, 'গরিব অবস্থায় জন্মগ্রহণ করা আপনার ভুল নয়। কিন্তু গরিব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করাটা আপনার ভুল।' গরিব হওয়াকে ভয় পাওয়া দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে বহু ব্যক্তিকে উৎসাহিত করেছে।
৮. গুরু খুঁজে নিন
  • মধ্যবিত্ত সমাজে ধনী হওয়ার কলাকৌশল নিজে নিজে রপ্ত করা অনেক কঠিন। এ ক্ষেত্রে একজন ধনী ব্যক্তির আন্তরিক পরামর্শ প্রয়োজন। আর এ কাজে উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৯. বিনিয়োগ, বিনিয়োগ, বিনিয়োগ
  • আপনার হাতে আয়ের সম্ভাব্য যত উৎস আছে, তা একত্রিত করে সতর্কভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। আর এ বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ আবার বিনিয়োগ করতে হবে। এভাবে ক্রমাগত বিনিয়োগ করেই আপনার আর্থিক ভিত্তি সম্প্রসারিত হবে।
১০. বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
  • অনেকেই লক্ষ্য নির্ধারণে বিচক্ষণতার পরিচয় দেয় না। এ কারণে তারা লক্ষ্যমাত্রাই অল্প করে ধরে রাখে। ফলে মূল উপার্জন এর চেয়েও কমে যায়। তাই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিচক্ষণতার পরিচয় দিন, এক কোটির জায়গায় টার্গেট করুন ১০ কোটি টাকার। এ ক্ষেত্রে পুরো টাকাটা না পেলেও এর কাছাকাছি অন্তত পৌঁছাতে পারবেন।
ক্যারিয়ার দৌড়-
ক্যারিয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বেশি প্রয়োজন l এটি হচ্ছে কিছু দক্ষতার সমাহার- যার সাহায্যে একেই অন্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে, দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনে সফলতার জন্য বেশি আইকিউ স্কোর সরাসরি সম্পৃক্ত নয়।

বরং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রয়োজন অত্যধিক। কর্মস্থলে নানা সমস্যা লেগেই থাকে। কাজের চাপ, সময়ের চাপ, সহকর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, বসের শ্যেন দৃষ্টি, সবকিছুই কাজের পরিবেশের শান্তি হরণ করে। বাড়ছে জীবন যন্ত্রণা, বাড়ছে আবেগীয় সমস্যা। ধৈর্যহীন হয়ে যাচ্ছি আমরা। অল্পতেই রেগে যাচ্ছি, খেপে যাচ্ছি, সহিংস আচরণ করছি।

নিজেদের কন্ট্রোল করার শক্তি যেন হারিয়ে ফেলছি। বুদ্ধি দিয়েই যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে হয়। কিন্তু আমরা প্রত্যক্ষ করি, বুদ্ধি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না। আবেগীয় সমস্যা কর্মদক্ষতা খর্ব করে। বুদ্ধি খরচ করে আবেগীয় সমস্যার নেতিবাচক অবস্থার উত্তরণ ঘটে না।

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা ইকিউ ব্যবহারের প্রথম শর্ত হলো নিজের অনুভূতির প্রতি মনোযোগী হওয়া, অন্যের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক আচরণের উৎস ধরা, নিজের ইমোশন শনাক্ত করা। দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হতে পারে আবেগীয় প্রতিক্রিয়া, নেগেটিভ ইমোশনই এক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। সহকর্মীদের মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতে পারে, মতবিরোধ সৃষ্টি হতে পারে, উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

অতিদ্রুতই এ সময় ব্রেইনে ইলেকট্রো কেমিক্যাল পদার্থ নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, আগ্রাসী ও মারমুখী ক্ষোভ জেগে ওঠে। এ সময় অপেক্ষা করতে হবে, কমপক্ষে তিন থেকে ছয় সেকেন্ড। চট করে নিজের অনভূতির প্রতি সতর্ক হতে হবে। অপেক্ষা করার অর্থ হচ্ছে, ইলেকট্রো-কেমিক্যাল রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়া নিষ্ক্রিয় হতে সময় দেওয়া, মাত্রা কমতে সুযোগ তৈরি করা।

তবে অপেক্ষা করা দুরূহ একটি কাজ। মনে রাখতে হবে, যদি ওই মুহূর্তে ভাবা যায়- ইমোশনাল out burst মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয় ডেকে আনে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করে, সর্বোপরি নিজের মানবীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয় তাহলে ত্বরিত অপেক্ষা করার কৌশল রপ্ত হয়ে যাবে। এ কৌশল রপ্ত করার মাধ্যমে, কেবল কর্মক্ষেত্রে নয়, জীবনের সবক্ষেত্রেই জয়ী হওয়ার পথ পেতে পারেন যে কেউই। প্রকৃতপক্ষে নিজের আবেগ বুঝতে পারলে নিজের স্কিল বাড়ানো সহজ, অন্যের আবেগ বোঝার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়, দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয়।

চাকরিপ্রার্থীদের গুণ ও দক্ষতা -
চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে কোন কোন গুণ ও দক্ষতাগুলো খোঁজেন নিয়োগকারীরা ?
সাধারনত বিশ্লেষণধর্মীতা, সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাসী, ইতিবাচক মনোভাব, দলগত কাজের দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান এই দক্ষতা এবং গুনাবলিই খোঁজেন নিয়োগকারীরা । দক্ষতা দুই ধরণের- বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ। যা সহজেই পরিমাণ নির্ণয় করা যায় তাই বাহ্যিক। যেমন- টাইপিং স্পিড, সার্টিফিকেট, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ভিন্ন ভাষায় সাবলীলতা ইত্যাদি। আর ধৈর্য্য, সময় জ্ঞান, বিভিন্ন লোকজনের সাথে মেশার ইত্যাদি হলো অভ্যন্তরীণ দক্ষতা । আর একজন প্রার্থীর মধ্যে এই দুইটির সহাবস্থান এর পর্যায় কতটুকু নিয়োগকারীরা আসলে তাই খুজেন।

নিজেকে গড়ে নেয়ার দীক্ষা -
জীবনে সফলতার দেখা পেতে হাজার হাজার উপদেশ তো পেয়েছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোতেই সফলতা আসে। কিছু অভ্যাস বা পদ্ধতির চর্চা থাকলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ ও পরিস্থিতি যাই থাকুক না কেনো, আপনি ব্যর্থ হবেন না। এর প্রদর্শনই আপনার পরিচয় ফুটিয়ে তুলবে।স্কুল কলেজের গণ্ডি পার হয়ে ইউনিভার্সিটি ভর্তি, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে উন্নিত হওয়া। ২০ বছর বয়সের থেকেই ছেলে মেয়েরা নিজেদের গড়ে তোলার ব্যাপারটি বুঝতে শিখে থাকে। ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে গড়ে নেওয়ার এটিই মোক্ষম সময়। এই সময়ে কিছু বিষয় হয়তো হাতে কলমে শিখিয়ে দেয়া হবে তাদেরকে। কিন্তু জীবনের বেশ কিছু শিক্ষা শিখে নিতে হবে নিজে থেকেই। সফলতা, উন্নতি এবং সঠিকভাবে জীবন যাপনের জন্য নিজেকে গড়ে নেওয়ার দীক্ষা কেউ শিখিয়ে দিতে পারে না। বুঝে নিতে হয় নিজ থেকেই।জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময় আবার পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় একেবারেই। সুতরাং সময়গুলোকে গুরুত্ব দিলে পরবর্তীতে তা নিয়ে আর আফসোস থাকবে না।

সৌজন্যতাবোধ তখনই বেঁচে থাকবে যদি আপনি তা অন্য কারো প্রতি প্রদর্শন করেন।প্রেম-ভালোবাসা শুধুমাত্র সময় কাটানোর কোনো বিষয় নয়। এটি জীবনের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার।আপনি নিজের জীবন এবং পৃথিবীটাকে যেভাবে দেখেন অন্য কারো পক্ষে তা দেখা বা ভাবা সম্ভব নয়। সুতরাং অন্য কারো কাছ থেকে নিজের মতো করে ভাবার আশা করবেন না।কোনো ব্যাপারে আশার হাল শক্ত করে ধরে রাখলে সে ব্যাপারটিতে সফলতা আসবেই।অনেক সময় একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণেও সঠিক পথে পরিচালিত হওয়া সম্ভব হয়।মানুষের চাহিদা থাকবেই এবং সময়ের সাথে সাথে তা বেড়েই চলবে। সব চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব নয় একেবারেই।স্বাস্থ্যটাকেই সব চাইতে গুরুত্ব দেয়া উচিত। নতুবা যৌবনেই বার্ধক্য ভর করতে পারে।জীবন যাপন এবং ধারণের জন্য পানি ব্যতীত অন্যান্য সকল পানীয় না পান করলেও চলবে। বিশেষ করে মদ ও এনার্জি ড্রিংকসগুলো বাদ দিলে জীবনটা ভালোই যাবে।জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর হবে যদি বর্তমানের সকল দিকে নজর দেয়া সম্ভব হয়। এতে করে ভবিষ্যতটাও আপনাআপনিই সঠিক হয়ে আসবে।যদি জীবনে সফলতা আনতে চান তবে অবশ্যই গণ্ডির বাইরে চিন্তা করা উচিত এবং সে হিসেবে নিজেকে তৈরি করে নেয়া উচিত।মানুষ পিছু কথা বলবেই এবং হিংসা বা নিন্দা করে চলবেই। তাই বোলে দমে থাকা বা নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার কোনো অর্থ হয় না। এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে জীবনে। যে কলটি করতে সাহস পাচ্ছেন না, তা করুন।ঘুম থেকে যখন উঠতে চান তার চেয়ে কিছু সময় আগে উঠুন।যতোটুকু পাবেন বিনিময়ে তার চেয়ে বেশি দিন।আপনার প্রতি মানুষ যতোটা খেয়াল রাখেন তাদের প্রতি ঢের বেশি খেয়াল রাখুন আপনি।রক্তাক্ত, ভঙ্গুর অবস্থাতেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।নিরাপদে কিছু করার সময়ও সাবধান থাকা ও নিরাপত্তহীনতায় ভোগা বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।কেউ সঙ্গে না থাকলে আপনার একাই হাল ধরতে হবে।অন্য কেউ না করে থাকলেও আপনার নিজের ওপর নিজেরই বিনিয়োগ করতে হবে।যে প্রশ্নের জবাব খুঁজে বেড়াচ্ছেন, সে সময় আপনাকে বোকাভাব দেখাতে হবে।কোনো কাজের ক্ষেত্রে আপনি যদি ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে চান, তবে সে পথের ফলাফল আপনাকে দেখাতে হবে।অসহায়ত্বের কারণে কোনো কিছু ঝেড়ে না ফেলে তার বিস্তারিত টেনে বের করুন।বাস্তবতা সম্পর্কে আপনাকে বলা হলেও ওই বিষয়ে আপনার নিজস্ব কোনো ব্যাখ্যা থাকলে তা খুঁজে বের করতে হবে।আপনাকে ভুল করতেই হবে এবং তখন বোকার মতো দেখাবে, এটাই স্বাভাবিক।
আপনাকে চেষ্টা করতে হবে; ব্যর্থ হবেন এবং আবার চেষ্টা করতে হবে।দম শেষ হয়ে আসলেও জোরে দৌড়াতে হবে।কেউ আপনার প্রতি নিষ্ঠুর হলেও তার প্রতি দয়াশীল থাকুন।অযৌক্তিক হলেও এবং অসামঞ্জস্যতা থাকলেও আপনাকে শেষ সময় বেঁধে দেওয়া হবেআপনি নির্ভুল থাকলে অন্য কারণে কোনো কাজ ব্যর্থ হয়ে গেলেও সে জন্য আপনার কাজকেই সন্দেহ করা হবে এবং তার ব্যাখ্যা আপনাকে দিতে হবে।লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে যাই থাক না কেনো, আপনাকে এগিয়ে যেতেই হবে। 
           সমসাময়িক চাকরি বাজার- 
একটি ভাল চাকরি বর্তমানে সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। চাকরি নামের সোনার হরিণটিকে নিজের করে নেওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ চাকরি সন্ধানী বেকার ছেলে মেয়েরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের চাকরির বাজার সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ক্ষেত্র। এই যুদ্ধে যারা যথাযথ ভাবে রসদ যোগান দিতে পারবে তারাই সফল হবে। তবে বাস্তব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শূন্য পদের চেয়ে পদ প্রত্যাশীদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। বাস্তবতা বড়ই কঠিন এই বিষয়টা মাথায় রেখে একাগ্রচিত্তে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের চাকরির বাজার: সাম্প্রতিক অবস্থা
* চাকরি বাজার এর প্রকৃতি খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
* সেবা খাতের চাকরির বাজার খুব দ্রুত বাড়ছে (যেমন: টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য প্রভৃতি) । সেই সাথে বেতনও খুব দ্রুত বাড়ছে।
* প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কর্মস্থলের অবস্থানগত (local presence) গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে।
* স্থায়ী চাকরির (Permanent Job) সংখ্যা কমে যাচ্ছে . চাকরিদাতা এবং চাকরিপ্রার্থী উভয়ের সামনেই এখন অনেক পথ খোলা।
* বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রতিষ্ঠানে (SME) চাকরির সুযোগ বেশী সৃষ্টি হয়েছে।
* চাকরিজীবিরা এখন এক খাত (Industry / Sector) থেকে অন্য খাতে চাকরির পরিবর্তন করছে।
* চাকরি দাতারা এখন চাকরিপ্রার্থী কতটুকু মূল্যের (Value) সেবা প্রদানে সক্ষম তার উপর ভিত্তি করে তার বেতন নির্ধারন করছে।
বর্তমানে চাকরির বাজারে ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতাকে বেশী প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে
* ক্রেতা সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, কারণ ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার ফলে ক্রেতাদের সামনে এখন বাছাই করার অনেক সুযোগ রয়েছে।
* নতুন নতুন যে দক্ষতাগুলো প্রয়োজন:
১. যোগাযোগের দক্ষতা ( Communication Skill )
২. ভাষাগত দক্ষতা ( Language Skill)
৩. তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা ( IT / Computer Skill)
৪. পারষ্পরিক সম্পর্ক রক্ষার দক্ষতা (Interpersonal Skill)
চাকরিক্ষেত্রে পুরষ্কৃত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলী ও দক্ষতা:
* পেশাদারিত্ব (Professionalism)
* নতুন নতুন ব্যবসায়ের ক্ষেত্র উদ্ভাবন ( New Business Development & Innovation Skills )
* উত্সাহ প্রদান দক্ষতা ( Motivation Skills )
* নিজের কাজের উপর সুষ্পষ্ট জ্ঞান (In-depth knowledge on own workarea )
* নিজের কাজের দক্ষতা উন্নয়নের আগ্রহ ( Eagerness for self development )
বাস্তবতা
দেশে হাজার হাজার মানুষ বেকার থাকা সত্বেও চাকরিদাতারা দক্ষ কর্মী পাচ্ছেন না।
সুযোগ
চাকরি পাবার আগে দক্ষতা বাড়ান ।
NGO তে উন্নত ক্যারিয়ার
NGO (Non-Government Organization) হল বেসরকারি অলাভজনক সংগঠন যারা দেশ, সমাজ ও মানুষের উন্নয়নের জন্য নানামুখী কাজ করে থাকে। এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন বিদেশি দাতাদের অর্থায়নের ভিত্তিতে সরকারকে উন্নয়নে সহযোগীতা করা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রাখা। বাংলাদেশে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি এনজিও আছে, এরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করছে। অনেকেই এনজিও তে ক্যারিয়ার গড়ে । তাই জেনে নিন কোন এনজিও কিভাবে ক্যারিয়ার গড়বেন এবং কিভাবে উন্নত করবেন নিজের ক্যারিয়ার ।

বর্তমানে এনজিওগুলোর মূল কাজ হচ্ছে মানুষের মধ্যে যে আত্মবিকাশের ক্ষমতা আছে সেটা কাজে লাগানো। মানুষ যেন নিজেই নিজের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই প্রক্রিয়া থেকে সুবিধাবঞ্চিত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী যখন লাভবান হন তখন তাদের মধ্যে একটি বিশেষ আত্মতৃপ্তি কাজ করে, তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ে- যা তাদের আরো সামনে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। এনজিওগুলো দেখে যে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী/ লোকালয়ের মানুষদের কোন্‌ কোন্‌ ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী তারা কাজ করে থাকে। বাংলাদেশের সব জায়গাতেই এরা কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে কিছু কিছু শহরকেন্দ্রীক, কিছু আছে গ্রাম কেন্দ্রীক, আবার কিছু এনজিও আছে যারা শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই কর্মপরিচালনা করে। এনজিওগুলোর কাজ বিশেষ ভৌগোলিক এলাকা ভিত্তিক-ও হয়ে থাকে, যেমন চর/উপকূলীয়/পার্বত্য এলাকা কেন্দ্রীক এনজিও। এছাড়া তারা বিশেষ জনগোষ্ঠীকে নিয়েও কাজ করে, যেমন- প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবি শিশু, কিংবা নির্যাতিতা নারী।
এনজিওর কাজ বহুমুখী, সেখানে কাজের ক্ষেত্রও ব্যাপক। মাঠ পর্যায়ে ছোট-বড় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে মেশা, তাদের সমস্যার কথা সরকার ও সমাজের প্রতিষ্ঠিত মহলকে জানানো, তাদের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নেওয়া, এর জন্য দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করা, সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিচালনা করা- নানা স্তরে এনজিওতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে।
এনজিওতে কাজের ধরন অন্যান্য সেক্টরগুলো থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এ পেশায় আসার আগে অবশ্যই একজনকে মানসিকভাবে ঠিক করে নিতে হবে যে, আদৌ এ পেশাটি তার জন্য উপযুক্ত কিনা। এখানে প্রতিটি কর্মীকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তাই এনজিওতে আপনি কেন কাজ করবেন তা নির্ভর করছে আপনার সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকে। এছাড়াও নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সহায়ক উপাদান হিসেবে এনজিওতে কর্মরত অবস্থায় আপনি বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকবেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের সুযোগ থেকে আপনি সে সকল অঞ্চলের মানুষ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন একেবারে কাছ থেকে। সর্বোপরি দরিদ্র সুবিধা বঞ্চিতদের উন্নয়নমূলক কাজে সরাসরি নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন।
এনজিওতে কাজের ধরনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হচ্ছে প্রজেক্ট ভিত্তিক, এবং আরেকটি হচ্ছে পার্মানেন্ট বা স্থায়ী ভিত্তিক।
প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজগুলোতে কর্মীরা চুক্তি ভিত্তিতে নিযুক্ত হন। অর্থাৎ প্রজেক্টের মেয়াদ যতদিন থাকবে, ঐ পদের জন্য তারা ততোদিনই কাজ করবেন। এ ধরণের প্রজেক্টগুলো সাধারণত গড়ে ৩ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। তবে এই প্রজেক্টগুলোর মেয়াদ পরবর্তীতে নবায়িত হতে পারে। আপনার কাজের উপর নির্ভর করবে প্রজেক্টের পরবর্তী অংশের জন্য আপনার চুক্তি নবায়িত হবে কিনা।
Regular/Permanent: এনজিওতে কিছু পদ আছে যেগুলোকে বলা হয়ে থাকে রেগুলার পজিশন। প্রজেক্টের সাথে এগুলো সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে না। এগুলোকে সুপারভাইজরি পজিশন-ও বলা হয়ে থাকে। যেমন, ফিন্যান্স ম্যানেজার, একাউন্টস ম্যানেজার, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার ইত্যাদি। স্থায়ী ম্যানেজারদের বেতন-ভাতাদি নির্দিষ্ট কোনো প্রজেক্টের উপর নির্ভর করে না। এদের তত্ত্বাবধানে থাকেন প্রজেক্টের অফিসাররা। স্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরতদের কর্মক্ষেত্র এবং কাজের ধরন সাধারণত অন্যান্য সেক্টরগুলোর মতোই হয়ে থাকে।
এন্ট্রি লেভেল:নিয়োগ প্রাপ্তদের চাকরির প্রথম ৩ থেকে ৬ মাস প্রবেশনারি পিরিয়ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এন্ট্রি লেভেল এর জন্য সাধারণত Assistant Officer/ Assistant Program Officer/ Assistant Monitoring Officer, Associate officer পদে লোক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি অফিসার পদে লোক নেয়। এসব পদ সাধারণত যারা মাস্টার্স শেষ করেছে, তাদের জন্য খোলা থাকে।
আবার এস.এস.সি ও এইচ.এস পাশ করে যারা কাজ শুরু করতে চান, তাদের জন্য কিছু পদ রয়েছে, যেমন- Facilitator, Community Facilitator, Community Teacher, Community Mobilizer ইত্যাদি। এদের বেতন কাঠামো ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে। এদের কাজ হলো: স্থানীয় জনগণের সাথে সভা করা, এলাকায় ব্যবহারযোগ্য এমন সম্পদ যা জনগণ কাজে লাগাতে পারে- সেগুলোর মানচিত্র তৈরী করা, নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রজেক্ট লিডারকে রিপোর্ট দেওয়া ইত্যাদি।
বেতন ও পদোন্নতি: এনজিও তে বেতন কাঠামো নির্ভর করে ঐ প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার উপর। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো দেশি এনজিওগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি বেতন দিয়ে থাকে। এন্ট্রি লেভেলের কর্মীদের বেতন ১০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। কর্মীকে কোন্‌ এলাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার উপরেও অনেক সময় বেতনের পরিমাণ নির্ভর করে।
এন্ট্রি লেভেলে বেতন কম থাকে কারণ আদর্শগতভাবে এনজিও কোনো ব্যবসায়িক লাভের জন্য কাজ করে না। তাই এনজিওর লক্ষ্য থাকে কর্মীদের যত কম বেতন দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ উন্নয়নের কাজে লাগানো যায়। বেতন শুরুতে কম থাকলেও পরবর্তীতে পদোন্নতির সাথে সাথে বৃদ্ধি পাবে।
এনজিওতে পদোন্নতির ধরনটা অন্যান্য সেক্টরগুলো থেকে অনেকটাই আলাদা। বেশিরভাগ এনজিওতে পদোন্নতি ‘সময় ভিত্তিক’ না হয়ে ‘পারফর্মেন্স ভিত্তিক’ হয়ে থাকে। ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে “Annual Performance Appraisal System” থাকে, যা বছর শেষে কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে। তাই, অন্যান্য সেক্টরের মত এখানে একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করলেই পদোন্নতির নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না, বরং তা নির্ভর করে কর্মীর কৃতিত্ব ও কর্মদক্ষতার উপর।
এই মুহূর্তের চাহিদা (এন্ট্রি লেভেল): বর্তমান প্রেক্ষাপটে এনজিওতে ‘প্রজেক্ট বা প্রোগ্রাম অফিসার’ পদে ক্যারিয়ার গড়ার চাহিদা সব চাইতে বেশী। এই পদে কর্মরত অবস্থায় একজন কর্মী যেমন নানামুখী কাজ শিখতে পারেন, ঠিক তেমনি ভাবে নিজের কর্ম দক্ষতা দিয়ে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার উজ্জ্বল করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল্লা আল মামুন বলেন: ‘It is a challenge. Initially you have to move a lot, you have to work a lot, you have to learn a lot.’
চাকরি পরিবর্তন: অন্যান্য সেক্টর গুলোর তুলনায় এনজিও তে চাকরির পরিবর্তন খুব ঘন ঘন হয়ে থাকে। সাধারণত এই ধরণের পরিবর্তন এন্ট্রি লেভেল থেকে মিড লেভেল পর্যন্ত হয়। তবে উঁচু পজিশনে এটি খুব একটা দেখা যায় না। ‘প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ’ হওয়ার কারণে মিড লেভেল এবং এন্ট্রি লেভেলে চাকরি পরিবর্তনের হারটি তুলনামূলক বেশী। তবে এই ধরণের পরিবর্তন একজন কর্মীকে নানান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়ে থাকে, যা পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করে।
এইচআর/ অ্যাডমিন/অ্যাকাউন্টস ইত্যাদি পদে কর্মরতদের কাজের ক্ষেত্র যেহেতু অন্যান্য সেক্টরগুলোর মতোই, তাই এই পদে থাকা কর্মীরা খুব সহজেই প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে অন্য কোথাও চাকরি নিতে পারেন। যারা এনজিওর কোনো প্রজেক্টে কাজ করেছেন, তারাও ভবিষ্যতে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ নিতে পারেন। এনজিওতে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে তারা অন্যান্য সেক্টরের রিসার্চ বিভাগে কাজে লাগাতে পারেন। তাছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে CSR (Corporate Social Responsibility) সম্পর্কিত কাজগুলোতেও তাদের অভিজ্ঞতা প্রয়োজনীয়।
বিদেশ গমন: এনজিওতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের বাইরে কাজ করার বা প্রশিক্ষণ অর্জন করার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। এখানে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ গমন অন্য যেকোন সেক্টরের চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে ম্যানেজারদের বিভিন্ন পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিদেশে যেতে হয়। এছাড়া তারা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রজেক্টের জন্য দক্ষ কর্মী আদান-প্রদান করে থাকেন।
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: এনজিওতে নারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এই সেক্টরটি কে বলা হয়ে থাকে ‘Women Friendly’। এখানে নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। কোনো কোনো এনজিওতে যাতায়াত ভাতা পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশি দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের নিরাপত্তার দিকেও যথেষ্ট খেয়াল রাখা হয়।
এনজিওতে মৌলিক বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ভাতা, উৎসব ভাতা, মাতৃত্বকালীন/পিতৃত্বকালীন ছুটি (পিতৃত্বকালীন ছুটি সাধারণত ১০ দিন) ইত্যাদি দেওয়া হয়। এছাড়া Hardship Allowance ও প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে, সেহেতু তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখে। কারণ, কোনো একটি দেশের কেউ যদি অনিরাপত্তাজনিত ঘটনায় আক্রান্ত হন, এনজিওকে তার জন্য বাকি সবকয়টি দেশে জবাবদিহি করতে হয়।
যোগ্যতামানসিক প্রস্তুতি: এনজিওতে কোনো চাকরীপ্রার্থীকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে দেখা হয় প্রার্থী মানসিকভাবে উপযুক্ত কি-না। প্রজেক্ট সাপোর্ট সেকশনে কাজের ক্ষেত্রে মানসিক প্রস্তুতি মুখ্য বিষয় নয়, তবে মাঠপর্যায়ে চাকরীর জন্য প্রার্থীর থাকতে হবে সবার সাথে কাজ করার ও মেশার ইচ্ছা, মানুষকে জানার আকাঙ্ক্ষা, সমাজের উন্নয়নে উদ্যোগী মনোভাব। তার সাথে সমাজের গঠন সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবেঃ মানুষ কেনো দরিদ্র, নারী-পুরুষের বৈষম্য শুরু হয় কোথা থেকে, সংস্কৃতি কিভাবে পরিবর্তিত হয়, শহরায়ন কিভাবে হয় ইত্যাদি। এখানে গতানুগতিক ধারায় চিন্তা করার অবকাশ নেই। এর জন্য পত্র-পত্রিকা ও সমাজ বিশ্লেষণের বইপত্র পড়তে হবে। মনে রাখতে হবে যে, এন্ট্রি লেভেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে আপনাকে পাঠানো হতে পারে দুর্গম কোনো অঞ্চলে। সুতরাং, সেই এলাকার মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে তাদের উন্নয়নে কাজ করার মানসিকতা আপনার থাকতে হবে। এ ধরনের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি, সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।
শিক্ষা: বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্য বা অন্য যেকোন অনুষদে যারা পড়াশোনা করেছেন- সবার জন্যই এনজিওতে কাজ আছে। তবে, সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছেন তাদের জন্য এখানে চাকরি পাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ। সেক্ষেত্রে তারা একটা প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে (বিডিজব্‌স ট্রেইনিং http://www.bdjobstraining.com/) চাকরি শুরু করতে পারেন, পরে কাজ ভালো লাগলে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস এ একটা মাস্টার্স ডিগ্রী নিতে পারেন।
প্রশিক্ষন: Bdjobs Training, ব্র্যাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস ডিপার্টমেন্ট) ইত্যাদি স্থানে এনজিও সম্পর্কিত বিভিন্ন কোর্স করা যায়। এগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার হয় না। এছাড়া চাকরি পাওয়ার পর অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণ থাকে।
অভিজ্ঞতা: আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে এন্ট্রি লেভেলেও ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশি এনজিওগুলোতে এর দরকার হয় না। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন এনজিওতে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করা যায়। ইন্টার্শিপ এর বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় কম। কোনো এনজিও তে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইন্টার্ন না চাইলে, আপনি নিজে থেকে তাদের অনুরোধ করতে পারেন যে, সপ্তাহে কিছুদিন বিনা বেতনে কাজ করার বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময় পরে তারা আপনাকে একটা সার্টিফিকেট দিবে। এছাড়া কারও যদি ছাত্রাবস্থায় কমিউনিটি সার্ভিসের রেকর্ড থাকে, তাহলে সেটি অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
সার কথাএনজিওতে কাজ খুবই প্রাণবন্ত এবং বহুমাত্রিক, তবে যেকোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার পূর্বে এই সেক্টরে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেসব বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে সেগুলো হলঃ- 
এনজিওটির সামাজিক পরিচিতি কতটুকু তা পরিলক্ষণ করুন।এই সেক্টরে কারও সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে এনজিওটি সম্পর্কে জানুন।এনজিওটি রেজিস্টার্ড কি-না তা যাচাই করুন।ওয়েবসাইট যাচাই করুন।এনজিওটি কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ের উপর কাজ করে তা জেনে নিন।চাকরি প্রদানের সময় কোনো জামানত/ব্যাঙ্ক ড্রাফট রাখতে চাইলে তাদের সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিন।
একটি ভালো এনজিওতে প্রথম দুই-তিন বছর কঠোর শ্রম ও একাগ্রতা দিয়ে কাজ করলে তা যেমন দেশ ও সমাজের উপকারে আসবে, তেমনিভাবে সেটি আপনার নিশ্চিত ভবিষৎ গঠনে সহায়তা করবে।  
আন্তর্জাতিক ব্যবসায় ক্যারিয়ার
বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে সারা বিশ্বের সাথে মুহূর্তেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস একদেশ থেকে অন্য দেশে বেচা- কেনা বেড়ে চলছে। এরই ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক ব্যবসার বহু ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে।

বাণিজ্য সম্প্রসারণে একদেশের সাথে অন্য দেশের সীমানা চুক্তি হচ্ছে সহজ থেকে সহজতর। দেশে দেশে গড়ে উঠছে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় সংস্থা। ব্যবসা প্রসার পাচ্ছে একদেশের প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানের। কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়। সুতরাং বর্তমানের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনিও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
আন্তর্জাতিক ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করতে যা কিছু জানা প্রয়োজনঃ
আন্তর্জাতিক ব্যাবসায় বিষয়ে জ্ঞান ইন্টারনেট বিষয়ে জ্ঞান ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থ বিষয়ে জ্ঞান থাকাটা জরুরি। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে। কেননা আপনার কটু আচরণ বা কথার মাধম্যে কারও মূল্যবোধে আঘাত লাগলে তৈরি হতে পারে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। এমনকি ভুলের অনেক বড় মাসূল শেষ পর্যন্ত গুনতে হতে পারে। সুতরাং পারস্পারিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানা- বুঝাটা ভাল থাকা জরুরি।

আন্তর্জাতিক ব্যবসায় কাজের ক্ষেত্র সমূহঃ
আন্তর্জাতিক ব্যবসা অফিসে চাকরি বিদেশের বড় বড় ব্যবসায় কোম্পানিগুলো প্রবাসী নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রগুলোতে আবেদনকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিষয়ে পড়েছে এমন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। সরকারী খাতে চাকরি দূতাবাস, শিক্ষা, প্রশাসন, তথ্য প্রযুক্তি , আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ, আমদানি বিশেষজ্ঞ,আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকে। আন্তর্জাতিক খণ্ডকালীন চাকরি সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ব্যাংকিং, আইন ব্যাবসা, মিডিয়া, শিক্ষা বিভাগ আন্তর্জাতিক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন দেশে ভিন্ন- ভিন্ন মানুষের সাথে কাজ করে। এই সব প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে জনবল নিয়োগ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ব্যাবসায় বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রীধারীদের চাহিদা আকাশ্চুম্বী। ভর্তি যোগ্যতা এইচ.এস.সি পাশ করার পর ভর্তি হতে পারবেন আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিষয়ে।

কোথায় পড়াশুনা করলে আপনি এধরনের পেশায় সফল হবেন?
দেশের ভেতরে পড়তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস-এ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিগ্রী দেয়া হয়।

এছাড়ও দেশের বড় বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়তে পারেন। যেমন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্রাক ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি।

আর দেশের বাইরে পড়তে চাইলে অামেরিকা,অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, ভারত, সুইজারল্যান্ড- স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
ইন্টারভিউয়ে নিজের সম্পর্কে বলা
ইন্টারভিউয়ে বসে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। নিজের সম্পর্কে বলা সময় এমন শক্ত ও আত্মবিশ্বাসী কিছু শব্দ ও বাক্যের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এখানে দেখে নিন এমনই ৭টি শব্দ যা বললে আপনার সম্পর্কে বিশ্বাস জন্মাবে কর্তৃপক্ষের।
১. অভিযোজনে দক্ষ : কোনো প্রতিষ্ঠান এমন কর্মী চায় না যারা নতুন পরিবেশে অস্বস্তিবোধ করেন। তারা এমন মানুষ খোঁজে যারা যেকোনো পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। কাজেই নিজেকে তেমনই একজন হিসাবে উপস্থিত করতে হবে।
২. দলের একজন : যেখানে গিয়ে যাদের সঙ্গেই কাজ করেন না কেন, সব দলের সঙ্গে জুড়ে যেতে দক্ষ হিসাবে নিজেকে তুলে ধরতে হবে। দলীয়ভাবেই বড় সফলতা আসে।
৩. সময়নিষ্ঠ : কর্তৃপক্ষ জানতে চায়, আপনি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রস্তুত কিনা। সময়জ্ঞান কেমন তা একজন কর্মীর জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে ধারণা আসে।
৪. উচ্চাকাঙ্ক্ষী : কর্মীকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হিসাবে দেখতে চায় প্রতিষ্ঠান। নয়তো বড় বড় লক্ষ্য হাসিল হবে কিভাবে। একই পদে থেকে বড় বড় লক্ষ্য একমাত্র উচ্চাকাঙ্ক্ষীরাই অর্জন করতে পারেন।
৫. গোছালো : ক্যাশ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যদি অর্থের ঘাটতি পড়ে, তবে চাকরিচ্যুত হবেন। কাজেই সব কাজে গোছালো থাকতে হবে। এ ধরনের কর্মীতাই প্রতিষ্ঠানকে সুশৃঙ্খলার মাঝে রাখতে পারেন।
৬. নেতৃত্বগুণ : আপনার মাঝে নেতৃত্বের গুণ দেখতে চান চাকরিদাতারা। যার মাঝে এমন গুণ রয়েছে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে হাল ধরতে পারেন। যদি আপনার মাঝে এমন গুণ থেকে থাকে তবে তার জানান দিন।
৭. খুঁতখুঁতে স্বভাব : এ ধরনের মানুষের চোখে ভুল বেরিয়ে আসে। যেকোনো কাজও হয় নিখুঁতভাবে। একে আপনার দুর্বলতা হিসাবেও তুলে ধরতে পারেন। কারণ আপনি এতটাই খুঁতখুঁতে যে প্রায়ই অনেক ধকল সহ্য করতে হয় আপনাকে।

ফ্যাশন ডিজাইনিংএ ক্যারিয়ার

ফ্যাশন ডিজাইনিং সৃজনশীল শিল্পের ব্যাবহারিক শাখা। যুগ যুগ ধরে সামাজিক বিবর্তনের মাধ্যমে পোশাক এবং আনুশাঙ্গিক বস্তুর পরিবর্তন আর মানুষের রুচির সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে ফ্যাশনের । কর্ম ক্ষেত্রে ফ্যাশন ডিজাইনিং সবচেয়ে লাভজনক, আকর্ষণীয়, চাকচিক্যময় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পেশা। আপনার মধ্যে যদি সৃজনশীলতা, শৈলী এবং মৌলিকত্ব থাকে তবে ফ্যাশন ডিজাইনিং কে আজকের বিশ্বের প্রতিযোগিতা মূলক পেশার একটি বিকল্প হিসাবে নিতে পারেন।

যোগ্যতা
যোগ্যতা সাধারনত দুই ধরনের


১. প্রাকৃতিক যোগ্যতা - রঙ, নকশা আর এই দুইয়ের সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বেড়ে উঠে,ফ্যাশন ডিজাইনিং তাদের জন্য অনেক খানি সহজ হয়ে যায়।

২. অর্জিত যোগ্যতা- মান সম্পন্ন স্বীকৃত ফ্যাশন ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করা যায় এই পেশায়।এক্ষেত্রে যারা এইচএসসি পাশের পর এ পেশাতে আসাই ভালো।

তবে দক্ষতা হক প্রাকৃতিক অথবা অর্জিত, পেশাদারী মনোভাব, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা আর কঠোর পরিশ্রমই দিতে পারে সাফল্য।

সিদ্ধান্ত নিন দ্রুত

বিশ্বে যখন ফ্যাশান নিয়ে তোলপাড় তখন পিছিয়ে নাই আমরাও। পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের সাফল্য আর নিত্য নতুন দেশিও ফ্যাশান হাউজ এর কারনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পেশা। তরুণদের মধ্যে ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়া এখন শুধু আর শখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাই যদি ডিজাইনারই হতে চান শুরু করুন একটু আগে।

ভাবছেন আপনার জন্য ফ্যাশন ডিজাইনিং উপযোগী কি না ?

যাই করুন ভালবেসে করুন – ভেবে দেখুন তো ডিজাইনিং আপনার কেমন লাগে ? রঙ, তুলি আর সেলাইর মেশিনে আগ্রহ আছে? মার্কেটে কোন জামা দেখলে কি মনে হয় কালার টা অন্য রকম হলে ভালো হতো। কখনও কি মনের জোকে করে ফেলেছেন টি-শার্ট এর ডিজাইন। উপরের কিছু না থাক- আছে কি অদম্য ইচ্ছা?

আর এগুলো যদি থাকে আপনার ভিতরে, কে জানি আজ থেকে ৫ বছর পরে আপনার ডিজাইন করা জামা হয়ত উচ্চ দামে কিনতে হবে।

যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা ভালো

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড, মিডিয়া, ফ্যাশান শো, তারকা খ্যাতি অথবা কোটি টাকার মালিক হওয়ার লোভে ভুলেও আসবেন না এই পথে। ফ্যাশান ডিজাইন একধরনের শিল্প, বই মুখস্ত করে ডিজাইনার হওয়া যায়না।

পড়বেন কোথায়?

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট আছে। তার মধ্যে -

· Bangladesh University of Textiles

· BGMEA University Of Fashion and Technology. (BUFT)

· Shanto-mariam University of Creative Technology. (SMUCT)

· Raffles Design Institute, Dhaka

· National Institute of Fashion Technology (NIFT)

ব্যায়

৪ বছর মেয়াদি বি এস সি করতে গেলে খরচ সবচেয়ে বেশি যাবে BUFT তে ৫ লক্ষ টাকার উপরে সেমিসটার ফি। বাকি গুলুতে এর চেয়ে কমে পড়তে পারবেন । শর্ট কোর্সে খরচ প্রতিষ্ঠান ভেদে কম বেশি হবে।

মিডিয়ায় সংবাদ বিভাগে ক্যারিয়ার

ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই বিভাগের মাধ্যমে নিউজ বা সংবাদসংশ্লিষ্ট সব কাজ হয়ে থাকে। প্রতিনিয়ত যা ঘটছে সেসব ঘটনা সংবাদের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ বিভাগকে ঘিরেই প্রায় সকল কাজ করা হয়ে থাকে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদ বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রটি প্রায় একইরকম হলেও পদবীর দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন নাম হয়ে থাকে। পত্রিকায় যাকে বলা হয় সাব এডিটর, টেলিভিশনে তাঁকে বলা হয় নিউজ এডিটর, অর্থাৎ যারা ডেস্কে কাজ করেন তাদেরকে বলে নিউজ এডিটর। নিন্মোক্ত পদ্গুলোতে সংবাদ বিভাগে কাজ করার সুযোগ রয়েছেঃ

১। রিপোর্টার

প্রতিবেদক বা রিপোর্টারই হচ্ছে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মূল চালিকা শক্তি। একজন প্রতিবেদক প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। একজন প্রতিবেদককে তৌরি করা প্রতিবেদনগুলো বেশীরভাগ সময় ক্যামেরার সামনে উপস্থাপন করতে হয়। আর তাই তাৎক্ষণিক সাবলীল উপস্থাপনার কৌশল ও কথায় শুদ্ধতা একজন প্রতিবেদকের জন্য আবশ্যক। এক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতকোত্তরধারীরা বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।

২। শিক্ষানবিস নিউজরুম এডিটর

শিক্ষানবিস নিউজরুম এডিটর পদে সাধারণত এন্ট্রি লেভেল থেকে কর্মী নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তাই প্রাথমিক বেতন কাঠামো এই পদের জন্য সাধারণত ১৫ থেকে ২০ হাজার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কাজের ক্ষেত্র হিসাবে এই পদে নিয়োজিত কর্মীকে ডেস্ক ইনচার্জ প্রদত্ত নিউজ গুলোকে সাজাতে হয় দর্শকের কথা মাথায় রেখে। সাধারণত কর্ম দক্ষতার উপর নির্ভর করে ১ থেকে দুই বছরের মধ্যে 'নিউজরুম এডিটর' পদে পদোন্নতি হতে পারে।

৩। নিউজরুম এডিটর

নিউজরুম এডিটর এর দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষানবিস নিউজরুম এডিটর হতে প্রাপ্ত সংবাদ কে সিনিয়র নিউজরুম এডিটর কর্তৃক এপ্রুভ করে নেওয়া এবং সংবাদ ঠিকভাবে পরিবেশিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা। নিউজরুম এডিটর এর বেতন কাঠামো ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে হয়ে থাকে এবং কর্ম দক্ষতার উপর ভিত্তি করে সিনিয়র নিউজরুম এডিটর পদে পদোন্নিত হতে পারে।

৪। সিনিয়র নিউজরুম এডিটরঃ

ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ এর স্বমন্বয় করা নিউজগুলো থেকে সিনিয়র নিউজরুম এডিটররা সম্ভাব্য নিউজ বুলেটিনগুলো বাছাই করে থাকে। এই পদের বেতন কাঠামো ৪০ থেকে ৪৫ হাজারের মধ্যে হয়ে থাকে।

৫। সংবাদ উপস্থাপকঃ

একজন নিউজ প্রেজেন্টার বা সংবাদ উপস্থাপক দর্শকের সামনে সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন। সাধারনত একজন সংবাদ উপস্থাপক-এর কাজ হলো-পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট উপস্থাপন, রিপোর্ট উপস্থাপনের আগে সে সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দেয়া এবং অনেক সময় প্রতিবেদকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ এবং উপস্থাপন করা। একজন সংবাদ উপস্থাপকের আকর্ষনীয় বাচনভঙ্গি, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং সুন্দর উপস্থাপন কৌশলের অধিকারী হতে হয়।

ক্যারিয়ার গড়ার ১০টি উপায়

ছেলেবেলা থেকেই সবাই স্বপ্ন দেখে ভাল কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করার। স্বপ্নের চাকরি পেতে সবাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনাও করে। স্বপ্নের চাকরিটা পেতে চেষ্টা চালিয়ে যায় সবাই। তবে ক’জন স্বপ্নকে সত্যি করতে পারে—এই প্রশ্নটা কিন্তু রয়েই গেছে। তবে স্বপ্নের চাকরি পেতে মানুষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করে ঠিকই, তবে স্বপ্নকে ধরতে পারেনা তাদের কিছু ব্যক্তিগত ও ভাবনাগত অভাবের ফলে। অভাবগুলো এতোটাই তীব্র হয় যে, পুরোদমে বিকল করে দেয় ২০-২৫ বছর ধরে পুষে রাখা স্বপ্নের চাকরির আকাঙ্ক্ষা। অনাকাঙ্ক্ষিত এইসব অভাবগুলোকে জয় করেই আমাদেরকে স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ভাল ক্যারিয়ার গড়তে অনেক বিষয়ই বিবেচ্য। এই লেখায় দশটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে আলোচনা করা হলো।

১. ইতিবাচক মনোভাব

আমরা সবাই জানি নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচক কর্মকান্ড ও মনোভাব সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য। সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়তেও ইতিবাচক মনোভাবের বিকল্প নেই। সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি কাজেই ইতিবাচক মনোভাবের প্রাধান্য বেশি। আমি অথবা আপনি এটা ভাল করেই জানি ‘উপদেশ দেয়া সহজ তবে পালন করাটাই কঠিন’। সেই সাথে আমরা এটাও জানি ইতিবাচক অবস্থান একজন মানুষকে কোলাহল, উত্তেজনা উগ্রতা, দুঃশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখে। আপনি যখন মনের দিক থেকে সত্ থাকবেন, তখন আপনাআপনি মন প্রফুল্ল থাকবে। নিজের সাথে বোঝাপড়াটাও ভাল হবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারলে স্বপ্নের চাকরিটাই না শুধু যেকোন কাজেই সফলতা পেতে পারি আমরা। 
২. নিজেকে জানুন

হরহামেশাই দেখা যায় ভাল বেতনের চাকরিকে সবাই প্রাধান্য দেয়। আবার বেশি বেতনের চাকরি করলে সমাজেও কদরটা একটু বেশি। তাই সকলেই ঝুঁকে পড়ে বেশি বেতনের চাকরির দিকে। তবে ব্যাপারটা এমন না হয়ে যদি নিজের আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়া হত, তাহলে ব্যাপারটা ঈর্ষণীয় হত। তাই আগে জানতে হবে, কোন পেশার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। আসল কথা হচ্ছে অন্যের পেশাকে দেখে লাভ নেই। নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে কোন পেশাকে বেছে নেওয়া যায়। মনের তৃপ্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সেজন্য দরকার নিজেকে জানা। নিজের উপর যতটা নির্ভরশীল হওয়া যাবে, সাফল্যের পথে সে সবচেয়ে এগিয়ে।

৩. চাহিদা ও দক্ষতা নির্ধারণ

প্রত্যেকেরই উচিত অবসর সময়টাতে নিজেতে তৈরি করা। এইচএসসি পাস একজন নিশ্চয়ই ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি পাবে না। তাই নিজের দক্ষতার উপর নির্ভর করেই চাহিদার চাকরিগুলোকে বেছে নিতে হবে। তারপর সর্বোচ্চ কাঙ্ক্ষিত চাকরিটা পেতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে হবে। আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি টানে। ধরুন, আপনি কম্পিউটারে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করেন। কম্পিউটারের সামনে বসলে আর উঠতেই ইচ্ছে করে না। আর কম্পিউটারও ভাল জানা আপনার। কম্পিউটার দক্ষতা ও আগ্রহ এই দুই মিলালে বলাই যায়—আপনার উচিত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়া। সে চেষ্টাটাই করতে হবে আপনাকে। 
৪. ব্যক্তিত্ব নিরূপণ

কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি নিরূপণ করার দায়িত্বও আপনারই। পার্সোনালিটি নিরূপণ করার জন্য আপনি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন তৈরি করে নিতে পারেন। অথবা কারও তৈরি করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে নিজেকে যাচাই করে নিতে পারেন। মায়ারস ব্রিগস টাইপ ইন্ডিকেটর (এমবিটিআই) নামের পরীক্ষা দিয়ে বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিগত দৃঢ়তা নিরূপণ করতে পারেন।

৫. নমনীয়তা

উগ্রতা সর্বদাই খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কোন কাজই জোরপূর্বক করে নেয়া যায় না। আর জোরপূর্বক করে নেয়া হলেও পরিবর্তিতে তার কুফল ভোগ করতেই হয়। তাই উগ্রতা নয়, নমনীয়তায় জীবন গড়াটাই যৌক্তিক।

৬. পরামর্শ গ্রহণ

অনেক সময়ই আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগী। এটা নয় ওটা ভাল। আসলে যে কোনটা ভাল তাই খুঁজে বের করতে পারি না আমরা। তাই আমাদের উচিত পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় কিংবা কোন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে সঠিক ও উপযুক্ত চাকরিটা বেছে নেওয়া। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞরা চাকরির বাজার সম্পর্কে প্রচুর জানেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্র, ক্রমোন্নতি ও বেতন সবদিক সম্পর্কেই একজন বিশেষজ্ঞ আপনাকে সঠিক চাকরিটি বেছে নিতে সহায়তা করতে পারবেন।

৭. সময় সচেতনতা

প্রত্যেকটা মানুষেরই উচিত সময়ের সঠিক ব্যবহার করা। সময়ের কাজ সময়ে করতে পারলে যেকোন ব্যক্তিই তার ক্যারিয়ারকে সফল স্থানে নিয়ে যেতে পারবে। অযথা সময় ক্ষেপনকারীর একজন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সময় এসে হাঁপিয়ে উঠে। ফলে সে তার কাজে ভুল করে। পরে করবো বলে ফেলে রাখলে কোন কাজেরই সফল সমাধান দেয়া সম্ভব নয়। তাই সময় সচেতন হয়ে উঠুন।

৮. নেটওয়ার্ক তৈরি

সফল ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে অবশ্যই একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। তবে নেটওয়ার্কটি অবশ্যই সত্ ও উদ্দেশ্যবহুল হওয়া চাই। নানাজনের সাথে কথা বলে ও বন্ধুত্ব করাটাও সফল ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করতে পারবে।

৯. ক্যারিয়ার জিজ্ঞাসা

আপনি যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন তবে কিন্তু সমস্যার সম্মুখীন হবেন। আপনার তখন সম্ভব হবে না স্কুলে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে পড়াশোনা করে অন্যক্ষেত্রে সফল হবার। তাই আপনার উচিত সঠিক কোন ক্যারিয়ার কলেজ বা ট্রেনিং সেন্টার খুঁজে বের করা। কারণ ক্যারিয়ার কলেজ বা ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে আপনি আপনার ক্যারিয়ারের নানা সমস্যার উত্তর খুঁজে পাবেন। আপনি নিজেও ক্যারিয়ার জিজ্ঞাসার মাধ্যমে আপনার নানা সমস্যার সমাধান করে নিতে পারেন। নতুন নতুন সব আইডিয়া তৈরি করে তার উপর পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমেও ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

১০. সহিষ্ণুতা

প্রবাদ আছে, ‘ভাল জিনিস একটু দেরিতেই আসে’। কোন কাজেই তাড়াহুড়া করাটা ভাল না। তড়িত্ যেকোনো কাজের মধ্যে ভুল হবার সম্ভাবনা বেশি।

ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা

আপনার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে মাত্র বা আপনার অনেকদিনের ক্যারিয়ার এবং ক্যারিয়ার বিষয়ে আপনি অভিজ্ঞ তবুও নিচের কিছু নির্দেশনা আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮টি ক্যারিয়ার টিপস নিম্নে দেওয়া হলোঃ

১. কখনো বই পড়া বন্ধ করবেন না।দীর্ঘ পাঠাভ্যাস আপনার ক্যারিয়ারের চাবিকাঠি।দুনিয়া প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে। লোকজন তার চাকরি-বাকরি, উন্নতির নিত্যনতুন দুয়ার খুঁজছে। আপনি যদি মনে করেন আপনার বর্তমান কর্মদক্ষতা যথেষ্ট, তবে হয়ত আপনি মনে করছেন আপনার বর্তমান চাকরিটিও আপনার জন্য যথেষ্ট।কিন্তু আপনি যদি জীবনে, চাকরি-বাকরি-ব্যবসায় আরো উন্নতি ঘটাতে চান তবে আপনার কর্মদক্ষতাকে প্রতিনিয়তই হালনাগাদ করতে হবে।

২. শুনুন, শিখুন এবং জিজ্ঞাসা করুনএকজন ভালো শ্রোতা অনেক কিছু শিখতে পারেন।শুনুন আপনার সহকর্মীর কথা, আপনার বস এবং ঊর্ধ্বতনদের কথা। আপনি তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে সে বিষয়ে তাদের সাথে আলাপ করুন, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। শুনুন এ বিষয়ে তারা কী বলে। তাদেরকে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা বলুন এবং কীভাবে আরো ভালো করা যায় সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ জিজ্ঞাসা করুন।অধিকাংশ মানুষই বিনে পয়সা জ্ঞান দিতে পছন্দ করেন।

৩. বর্তমান কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিনবর্তমান কাজ বা কর্মক্ষেত্রটিই হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার গড়ার সেরা সুযোগ।খুব কম সফল লোকই গড়পড়তা মানুষ থেকে আলাদা হন। কিন্তু বিনা পরিশ্রমে কোনো কিছুই অর্জন করা যায় না।আপনি যদি আপনার কাজটি ঠিকঠাকমতো করতে পারেন এবং আপনার দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন তবে আপনার নতুন ক্যারিয়ার শুরু করতে অনেক সহজ হবে।আপনি কী করতে পারেন, আপনার পক্ষে কী করা সম্ভব এসব বিষয়ে আপনার ঊর্ধ্বতনের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন।কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। কর্মক্ষেত্রে প্রমাণ করুন যে আপনি একজন কাজের লোক।

৪. যোগাযোগ বাড়ানযোগাযোগের ক্ষেত্র বাড়ানো আপনার ক্যারিয়ার গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।আপনি কী জানেন ৫০ ভাগ কাজকর্ম, চাকরি-বাকরিই যোগাযোগের ফলে ঘটে।আপনার যদি খুব ভালো যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, এটি আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নতুন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে প্রতিদিন সময় দিন। যেসব লোকের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং সম্পর্ক তৈরি করুন। নিয়মিত তাদের খোঁজ-খবর নিন, তাদের স্বাস্থ্য, ব্যবসা বা চাকরি বাকরি বিষয়ে আন্তরিক প্রশ্ন করুন।

৫. আপনার বর্তমান করণীয় চিহ্নিত করুনঅনুমান নয় বর্তমানে আপনার কী করণীয় তা চিহ্নিত করুন।অনুমানের উপর নির্ভর থেকে আপনার বর্তমান সময় ও মেধার অপচয় ঘটাবেন না।আপনি যখন একটি নতুন কাজ বা চাকরি শুরু করেন, আপনার কাজের অগ্রাধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত হউন। আপনার কাজের অগ্রাধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে বারবার আপনার ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে জেনে নিন।

৬. পরবর্তী কাজটি চিহ্নিত করুনআপনার পরবর্তী কাক্সিক্ষত কাজ বা চাকরিটি অবশ্যই চিহ্নিত হওয়া উচিত। যাতে আপনার আগ্রহ আছে এমন বিষয়ই পরবর্তী কাজ হিসেবে নির্ধারণ করুন। সবার আগ্রহ-পছন্দের ধরন এক রকম নয়। সুতরাং অন্য কেউ একটি কাজ করলেই যে আপনাকেও তা করতে হবে এমন নয়। আপনি যে কাজ উপভোগ করতে পারবেন, আপনার সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটি দিতে পারবেন তাই আপনার ভবিষ্যৎ কর্ম হিসেবে পরিকল্পনায় থাকা উচিত।নিজেকেই প্রশ্ন করুন, কোন ধরনের কাজে আপনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আপনি কি প্রযুক্তি সম্পর্কিত কাজকর্ম উপভোগ করেন বা নানা লোকজনের সাথে কাজ কাজ করতে পছন্দ করেন? আপনি কি আপনার নিজের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহী? আপনি কী একজন শিল্পী, একজন ডিজাইনার বা একজন দক্ষ প্রকৌশলী বা দক্ষ ব্যবস্থাপক?আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার তৈরির আগেই আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত।

৭. নিজে নিজে প্রস্তুতি নিনআপনার স্বপ্ন, দক্ষতা অবশ্যই ভবিষ্যতে প্রমাণিত হবে। সুতরাং প্রস্তুত হোন।একটি মুহূর্তও দেরি নয়। আপনার জীবনবৃত্তান্ত এখনই হালনাগাদ করুন এবং এটি প্রতিনিয়তই হালনাগাদ রাখুন।কিভাবে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে হয় অথবা কিভাবে আপনি নিজেকে তুলে ধরবেন তা যদি না জানেন এখনই জেনে নিন।

৮. আপনার স্বপ্নকে উপলব্ধি করুনকর্মের মাধ্যমে আপনার স্বপ্ন তুলে ধরুন।ব্যস্ততা যেন আপনার স্বপ্নকে হত্যা না করে। যদি আপনার লক্ষ্যমাত্রা অতিউচ্চ হয়, এখনই থেকেই তা বাস্তবায়নে নেমে পড়ুন।আপনার যদি আরো শিক্ষাগ্রহণ, আরো ভালো চাকরি, নিজের প্রতিষ্ঠান তৈরি বা এ ধরনের কোনো স্বপ্ন থাকে তবে দৈনন্দিন জীবনকে বিশ্রামাগার বানাবেন না। আপনার দৈনন্দিন জীবন প্রয়োজনীয় ব্যস্ততায় সাজিয়ে তুলুন। পরিকল্পনা মাফিক অগ্রসর হউন, ইঁদুর দৌড়ে না নেমে আপনার শক্তি সামর্থ্যর সদ্ব্যবহার করুন।

সফল ক্যারিয়ার গঠনে করণীয়

সমাজের সার্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করলে প্রতিভাবান অনেক ফুটন্ত গোলাপকে অঙ্কুরেই ঝরে যেতে দেখা যায়। যথেষ্ট মেধা এবং দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে এখনকার তরুন-তরুণীদের অনেকের ক্যারিয়ার হয় অন্ধকারচ্ছন্ন। ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা রাষ্ট্রীয় কোন ক্ষেত্রেই আমাদের দেশে সুচারু পরিকল্পনার লেশমাত্র নেই। আবার পরিকল্পনা যাও আছে তার বাস্তব প্রতিফলন নেই।

ঐতিহ্যগত এবং গতানুগতিকভাবে পরিচালিত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু শিল্প প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত। পিতা-মাতা, অভিভাবক অথবা পরিবারের দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকেও সন্তানের মেধা, ইচ্ছা কিংবা সামাজিক অবস্থা বিচার বিবেচনা করে ছেলে মেয়েদের জন্য ক্যারিয়ার ভিত্তিক লেখাপড়ার যথাযথ চেষ্টা করা হয় না।

চিন্তা-চেতনার সীমা সকলের মধ্যেই খুব সীমিত আকারে পরিলক্ষিত হয়। ফলে একটা পর্যায়ে উপনীত হয়ে ছেলে মেয়েরা তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে দারুণভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। এর দ্বায়ভার শিক্ষার্থীদের নিজেদের উপরে অনেকটা বর্তায়। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান কিংবা অবিভাবকরাও এ দ্বায় থেকে মুক্ত নয়।

বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের খাম খেয়ালিপনা তাদের সাবলীল ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম অন্তরায়। তাদের উদ্দেশ্যহীন চলার পথ কুসুম কোমল নয়, বেশিরভাগ সময় কাটাযুক্ত হতেই দেখা যায়। মূলত নিজের প্রতি আস্থাহীনতায় ভোগা, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা, সুপরিকল্পনার অভাব, অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যর্থতা, সময়ের যথেচ্ছ ব্যবহার, অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করা ইত্যাদি কারণে এখনকার অধিকাংশ ছেলে মেয়েদের মান সম্মত ক্যারিয়ার গঠন সম্ভব হয় না। তার সাথে রয়েছে রাজনৈতিক এবং সামাজিক নানাবিধ সমস্যা যা যুব সমাজের ক্যারিয়ার ধ্বংসের শক্তিশালী প্রভাবক। আসুন জেনে নেয়া যাক ভালো ক্যারিয়ার গঠন করতে আপনার করণীয়গুলো:

১. নিজের নেটওয়ার্ক তৈরি করুন: আপনার উন্নতির আর একটি ধাপ হল নেটওয়ার্ক তৈরি করা। আপনি জেনে অবাক হবেন বর্তমানে ৫০%-এর বেশিরভাগ কাজের সন্ধান মেলে নিজের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। যদি আপনার একটি ভালো নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে মানুষকে জানা বা নতুন বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনে কাজের সুযোগ এমনিতেই অনেক বেড়ে যাবে। কিছুটা সময় রাখুন সম্পর্ক তৈরিতে এবং কখনোই যার সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার কথা ভুলে গেলে চলবে না। সাধারণ সৌজন্যবোধের পাশাপাশি আপনি তাদেরও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করুন। ক্যারিয়ার বিষয় আলোচনা করুন। নিজেদেরও ভাবনাগুলোকে সমৃদ্ধ করুন। ফলে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন নিজের জন্য।

২. বর্তমান পেশা চিহ্নিতকরণ : আপনার বর্তমান পেশায় নিজের অবস্থান নিয়ে কল্পনা নয়, নিশ্চিত হোন। নিজের কাজ সম্পর্কে কাল্পনিক ভাবনা বাদ দিয়ে প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হোন। নতুবা সময় ও মেধা নষ্ট করা হবে। কাজ শুরু ও পূর্বে আপনার উপরস্তরের কারও কাছ থেকে নিজের অবস্থান জেনে নিন। যদি আপনি নিশ্চিত হতে না পারেন তাহলে কোন কাজ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করুন। যদি আপনি আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে নিন। এতে আপনার দক্ষতা ফুটে উঠবে।

৩. পরবর্তী কাজ চিহ্নিত করুন: আপনাকেই আপনার স্বপ্নের পেশা চিহ্নিত করতে হবে। আপনার পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রস্তুতির পূর্বে আপনার স্বপ্নের পেশা চিহ্নিতকরণ জরুরি। আপনার স্বপ্নের পেশ নিয়ে কি আপনার ভাবনা? কি আপনার কাছে স্বস্তিদায়ক? কোনটি পছন্দ? আর কি করতে যাচ্ছেন? ভালোভাবে পর্যালোচনা করুন। মনে রাখবেন আপনার পছন্দ-অপছন্দ সহকর্মীদেরও উপরও প্রভাব ফেলে। আপনি প্রযুক্তি নামি মানুষের সাথে কাজ করতে আগ্রহী সেটাও ভাবনার বিষয়। কোন পেশাটি আপনার কাছে অধিক আবেদন তৈরি করছে আবিষ্কার করা প্রয়োজন। পেশায় নিজের লক্ষ্য নির্ধারণের পূর্বেই পেশাটি চিহ্নিত করা জরুরি।

৪. নিজেকে তৈরি করা: আপনার স্বপ্নের কাল আবির্ভাব ঘটবেই। তাই নিজেকে তৈরি করুন এক্ষুনি। একদম সময় নষ্ট করবেন না। নিজের রিজিউমকে সমৃদ্ধ করুন প্রতিনিয়ত। কাল অবশ্যই আপনার স্বপ্নের পেশা আপনার নাকের ডগায় এসে পৌঁছবে। নিজের প্রোফেশনাল রিজিউম তৈরি করে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও গঠনগত করেও তৈরি করুন। আপনার নিয়োগকর্তার সামনে উপস্থাপনের জন্য আপনি যদি না জানেন নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে বা কীভাবে রিজিউম তৈরি করবেন তবে আজ থেকেই কাজে লেগে পড়ুন।

৫. নিজের স্বপ্নকে অনুধাবন: স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিন। নিজে স্বপ্নকে ব্যস্ততার জন্য মরে যেতে দেবেন না। আপনি যতই ব্যস্ত থাকুন বা আপনার যতই উচ্চাকাক্সক্ষা থাকুক হাল ছেড়ে দেবেন না। আপনার পরিকল্পনা ভাল একটি চাকরি করা। একটি ভাল চাকরির জন্য যথেষ্ট শিক্ষা কিংবা যদি নিজেই কিছু করতে চান তাহলে নিজেকে অবশ্যই অপেক্ষাকারীদের দলে ফেলবেন না।

চাকরি খোঁজা, স্বাক্ষাৎকার কৌশল, নিজেকে উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করুন। যা আপনাকে সফল করে তুলবে।

৬. সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন: আপনার সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের জন্য আপনাকে অনেক কিছু জানতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করুন। বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ নিন। নব উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখুন। আর কখনই ভুলবেন না আপনার বর্তমান পেশাই আপনার জ্ঞান অর্জনের সর্বোত্তম উৎস।

ক্যারিয়ার সাফল্যে মনছবি
প্রশ্ন : মনছবি আসলে কী?

উত্তর : মনছবি মনের পর্দায় গভীর বিশ্বাস আর একাগ্র মনোযোগে লালিত সাফল্যের ছবি। অর্থাৎ আপনি যা হতে চান বা পেতে চান তা প্রথমত চাওয়া, পাবো বলে বিশ্বাস করা এবং পাচ্ছি বলে অনুভব করার নাম মনছবি। ইতিহাসে সফল মানুষরা কখনোই বিরাজমান অবস্থাকে মেনে নিতে পারেন নি, অন্যের সাফল্য দেখে বিস্মিত হন নি; বরং বিশ্বাস করেছেন যে বিস্ময় সৃষ্টি করার শক্তি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। পরিবর্তনের ক্রমাগত স্বপ্ন তাদের প্রেরণা যুগিয়েছে জীবন বদলাতে, নতুন বাস্তবতা গড়তে। সচেতন বা অবচেতনভাবে তারা আসলে মনছবিই করেছেন। শুধু আশা নয়, মনছবি হলো বিশ্বাস ও কর্মে লালিত ভবিষ্যতের বাস্তবতা। পাখি যেমন তার গন্তব্যে পৌঁছায় ডানায় ভর করে, মানুষও সাফল্যের শিখরে পৌঁছায় মনছবির ডানা মেলে দিয়ে। এ প্রসঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে উদ্ধৃত করা যেতে পারে-
১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর, বেলা ১০টা। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাতাসের চেয়ে ভারী শক্তিচালিত এক যান নিয়ে মানুষ সফলভাবে আকাশে উড়লো, হাজার বছর ধরে যা ছিলো শুধু এক অসম্ভব কল্পনা। আর তা করলেন দুই ভাই-উইলবার রাইট এবং অরভিল রাইট।
মজার ব্যাপার হলো, তারা কেউ কিন্তু কোনো বিজ্ঞানী ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্ক, পদার্থবিজ্ঞান বা এরোনটিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তাদের কোনো উচ্চতর ডিগ্রি ছিলো না, এমনকি হাইস্কুলের গন্ডিও তারা পেরোন নি। ডেটনের দুজন বাইসাইকেল মিস্ত্রি কী করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন? এক কথায় তার উত্তর-মনছবি।
ছোটবেলায় বাবার এনে দেয়া একটি উড়ন্ত খেলনা থেকেই দুই ভাইয়ের মাথায় প্রথম উড়ে যাওয়ার চিন্তা জাগে। তারপর বছরের পর বছর ধরে গবেষণা, চেষ্টা, ব্যর্থতার পর তারা লাভ করেন এ সাফল্য। এরপর আপনি যখন কোনো বিমানে চড়বেন বা মাথার ওপর দিয়ে বিমান উড়ে যেতে দেখবেন, আপনি অনুভব করার চেষ্টা করবেন কত সাধারণ একটি ভাবনা থেকেই না এ বাস্তবতার শুরু হয়েছিলো। কারণ মন যা ভাবতে পারে, যা বিশ্বাস করতে পারে; তা অর্জন করতে পারে। এখানেই মনছবির শক্তি।

প্রশ্ন : মনছবি কীভাবে কাজ করে?

উত্তর : মনছবি গতি পায় কল্পনার শক্তিতে। কাজ করে গাইডেড মিসাইলের মতো। আসলে সাফল্য ও আত্ম উন্নয়নের মূল সূত্র হচ্ছে আপনি বাস্তবে যা হতে চান প্রথমে কল্পনায় তা হোন। কেন? ঔপন্যাসিক কূট ভনেগার্টের ভাষায়, ‘আমরা নিজেদের সম্পর্কে যা কল্পনা করি আমরা আসলে তা-ই’। মস্তিষ্কের ভাষা হচ্ছে ছবি বা ইমেজ। আমাদের চিন্তা প্রধানত আমাদের মনের পর্দায় প্রতিফলিত ছবিগুলোর বিশ্লেষণ মাত্র। আমরা আমাদের নিজেদের ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে যে ছবি মনে মনে অাঁকি তা আমাদের অনুভূতি, আচরণ ও কর্মতৎপরতাকে প্রভাবিত করে। ফলে মনে মনে নিজের যে ছবি অাঁকি, ধীরে ধীরে আমরা তাতেই পরিণত হই।
আমরা যখন একাগ্র কল্পনায় আমাদের লক্ষ্যের ছবি মনে গেঁথে ফেলি তখন তা ব্রেন ও নার্ভাস সিস্টেমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য অর্জনের পথে পরিচালিত করে। অনেকটা স্ব-নিয়ন্ত্রিত মিসাইলের (self guided missile) মতো। এই মিসাইলের টার্গেট আগে থেকে নির্ধারিত থাকে। এর কোনো দিক-নির্দেশনার প্রয়োজন হয় না। এটি নিজের পথে এগিয়ে চলে এবং ইতিবাচক ফিডব্যাক দ্বারা (অর্থাৎ যে ফিডব্যাক বলছে সে সঠিক পথে আছে সেই ফিডব্যাক দ্বারা) প্রভাবিত হয় না।
কিন্তু যখনই সে তার লক্ষ্যপথ থেকে বিচ্যুত হতে শুরু করে তখনই সে প্রাপ্ত নতুন তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়। অর্থাৎ মিসাইলের গাইডেন্স সিস্টেম যখন খবর পেলো যে, সে নির্দিষ্ট গতিপথ থেকে বামদিকে সরে গেছে, তখন এর পথ-সংশোধনী যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে ডানদিকে পরিচালিত করে। ডানদিকে যেতে গিয়ে যদি আবার বেশি ডানে চলে যায়, তাহলে আবার তা বামদিকে গতি পরিবর্তন করে। প্রতিনিয়ত ভুল সংশোধন করতে করতে মিসাইলটি সামনে অগ্রসর হয় এবং একসময় লক্ষ্যবস্ত্ততে আঘাত হানে।
মনছবিও কাজ করে একই প্রক্রিয়ায়। মনছবির মাধ্যমে লক্ষ্যের ছবি অবচেতন মনে বসিয়ে দিলে মন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্যে তার সকল শক্তিকে নিয়োগ করবে। দিবানিশি কাজ করে যাবে। প্রয়োজনে পথ সংশোধন করবে। প্রয়োজনে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দেবে। আরো চিন্তা গবেষণায় আপনাকে নিয়োজিত করবে। দুর্দমনীয় আগ্রহ ও উদ্যম সৃষ্টি করবে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার জন্যে যা যা করা দরকার তা করার জন্যে ভেতরে একটা তাড়না সৃষ্টি করবে। আপনাকে নিয়ে যাবে লক্ষ্যপানে। একটি প্রাচীন গল্পের মধ্য দিয়ে এ বিষয়টি আরো ভালোভাবে বোঝা যাবে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সমুদ্রপারের তাঁতিকন্যা ফাতিমা-ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিলো সে রাজরানী হবে, তার ঐশ্বর্যকে সে ব্যয় করবে দুস্থ-বঞ্চিতদের কল্যাণে। এক গরিব তাঁতিকন্যার তুলনায় স্বপ্নটা অনেক বড় বৈকি। কিন্তু সারাদিন কাপড় বুনতে বুনতে সে এ স্বপ্নই দেখে। অবশেষে তার পীড়াপীড়িতে বাধ্য হয়ে বাবা তাকে নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করলেন। গন্তব্য মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া। পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি হলো। ফাতিমা হারিয়ে গেল তার বাবার কাছ থেকে। সমুদ্রতীরে এক বৃদ্ধ জেলে তাকে পেয়ে নিয়ে গেল নিজের বাড়িতে। সেখানে ফাতিমা শিখলো দড়ি পাকিয়ে জাল বুনতে।
কিছুদিন পর আবার তার জীবনে নেমে এলো দুর্বিপাক। জলদস্যুরা তাকে অপহরণ করে বিক্রি করলো বসরার এক সওদাগরের কাছে ক্রীতদাসী হিসেবে। সওদাগরের ছিলো জাভা থেকে কাঠ আমদানি করে নৌকা বানানোর ব্যবসা। সেখানে সে আয়ত্ত করলো কাঠ চেরাই আর মাস্ত্তল বানানোর প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে কয়েকবার জাহাজডুবিতে সওদাগরের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হলো, লোকজন তাকে ছেড়ে চলে গেল। তখন বুদ্ধিমতী ও বিশ্বস্ত ফাতিমা মনিবের পাশে দাঁড়ালো। মনিব তার আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ব্যবসায়ে অংশীদার করলেন। ফাতিমা কাঠ আনতে সমুদ্র পথে জাভার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। কিন্তু আবার ঝড়, আবারও নিরুদ্দেশে ভেসে যাওয়া। এবার ফাতিমা গিয়ে পড়লো চীন দেশে। জ্ঞান ফিরে সে দেখলো, মহাসমারোহে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজপ্রাসাদে।
ঘটনা ছিলো এরকম-চীনদেশের রাজপুত্রের বিয়ে সম্পর্কে রাজ-জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, হবু কনে পূর্ণিমার রাতে সমুদ্র থেকে আসবে, যার ভাষা, চেহারা হবে আলাদা এবং সে তাঁবু বানাতে পারবে। পারিপার্শ্বিক সব মিলে গেল। এবার তাঁবু বানাতে হবে। ফাতিমা নেমে পড়লো তাঁবু বানাতে। কাপড় বোনার অভিজ্ঞতা থেকে কাপড় বানালো। জাল বানানোর অভিজ্ঞতা থেকে দড়ি বানালো। আর মাস্ত্তল বানানোর অভিজ্ঞতা থেকে বানালো তাঁবুর খুঁটি। তাঁবু তৈরি হলো। রাজা নিশ্চিত হলেন এই সে মেয়ে। পূরণ হলো ফাতিমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন।
আসলে এটাই মনছবি। এগিয়ে চলে এরকম জীবনব্যাপী। জীবনের নানা ঘটনা, বাঁকগুলোতে প্রো-একটিভ থেকে একাগ্র বিশ্বাসে নীরবে কাজ করে গেলেই আসে চূড়ান্ত সাফল্য।

সূত্র- ইন্টারনেট
Share:

Search This Blog

S AhameD. Powered by Blogger.

Contact Form

Name

Email *

Message *

Wikipedia

Search results

Translate

Recent Posts

Unordered List

Pages

Theme Support